বর্তমান সময়ে সার্বিয়া ভিসা চেক করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক বাংলাদেশি নাগরিক সার্বিয়া ভিসা নিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। কেউ নকল ভিসা পাচ্ছেন, আবার কেউ ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট দেখিয়ে টাকা খুইয়েছেন। তাই আপনি যদি ইতোমধ্যে সার্বিয়া ভিসার জন্য আবেদন করে থাকেন, অথবা সামনে আবেদন করার পরিকল্পনা করেন, তাহলে অবশ্যই সার্বিয়া ভিসা চেক করার সঠিক নিয়ম জানা দরকার। এই গাইডে আমরা সহজ ভাষায় সার্বিয়া ভিসা চেক, অনলাইনে সার্বিয়া ভিসা যাচাই, ওয়ার্ক পারমিট দেখতে কেমন, সার্বিয়া যেতে খরচ, বেতন ও কাজের চাহিদা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।
আরও জেনে রাখুনঃ ওমানের ভিসা কবে খুলবে
সার্বিয়া ভিসা চেক
সার্বিয়া ভিসা চেক করার মূল উদ্দেশ্য হলো আপনার ভিসাটি আসল নাকি নকল তা নিশ্চিত করা। বর্তমানে দালাল চক্র নকল কাগজপত্র বানিয়ে অনেককে প্রতারিত করছে। তাই ভিসা হাতে পাওয়ার পর বসে না থেকে দ্রুত ভিসা যাচাই করা উচিত। সার্বিয়া ভিসা চেক করার দুটি কার্যকর উপায় রয়েছে।
প্রথম উপায় হলো সরাসরি যে এজেন্সির মাধ্যমে আপনি ভিসার জন্য আবেদন করেছেন, সেই এজেন্সিতে গিয়ে কাগজপত্র যাচাই করা। ভালো ও বিশ্বস্ত এজেন্সি হলে তারা আপনাকে অফিসিয়াল ডকুমেন্ট দেখাবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেবে। দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো অনলাইনে সার্বিয়া ভিসা চেক করা। যদিও এই পদ্ধতিটি একটু কঠিন, তবে সঠিক তথ্য থাকলে ঘরে বসেই যাচাই করা সম্ভব।
আরও জেনে রাখুনঃ দুবাই ভিসা কবে খুলবে
অনলাইনে সার্বিয়া ভিসা চেক
অনলাইনে সার্বিয়া ভিসা চেক করতে হলে আপনাকে নির্দিষ্ট একটি সরকারি তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হবে। ঘরে বসে ভিসা যাচাই করার জন্য প্রথমে https://www.companywall.rs/ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর নিচের তথ্যগুলো প্রয়োজন হবে—
| প্রয়োজনীয় তথ্য | কেন দরকার |
|---|---|
| ওয়ার্ক পারমিট নাম্বার | ভিসার মূল পরিচয় যাচাই |
| পাসপোর্ট নম্বর | আবেদনকারীর পরিচয় নিশ্চিত |
| জন্ম তারিখ | ডাটাবেজ মিলানোর জন্য |
সব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়ার পর সার্চ করলে আপনার ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিটের বর্তমান অবস্থা দেখতে পারবেন। যদি কোনো কারণে অনলাইনে তথ্য না আসে, তাহলে দুশ্চিন্তা না করে সরাসরি আপনার ভিসা এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করুন। অনলাইনে সার্বিয়া ভিসা চেক করার সময় ভুল তথ্য দিলে অনেক সময় ফলাফল আসে না। তাই ধৈর্য ধরে তথ্য দিন এবং একাধিকবার চেষ্টা করুন।
সার্বিয়া ওয়ার্ক পারমিট দেখতে কেমন
নতুন যারা কাজের ভিসায় সার্বিয়া যেতে চান, তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সার্বিয়া ওয়ার্ক পারমিট দেখতে কেমন তা জানা। কারণ নকল ওয়ার্ক পারমিট দেখিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রতারণা করা হয়।
সাধারণত সার্বিয়া ওয়ার্ক পারমিটে নিচের তথ্যগুলো থাকে—
- আবেদনকারীর পুরো নাম
- পাসপোর্ট নম্বর
- কোম্পানির নাম ও ঠিকানা
- কাজের ধরন
- মেয়াদ ও ইস্যু তারিখ
- অফিসিয়াল সিল ও স্বাক্ষর
আপনি যদি আগে থেকেই জানেন আসল সার্বিয়া ওয়ার্ক পারমিট দেখতে কেমন, তাহলে ভিসা হাতে পাওয়ার পর সহজেই মিলিয়ে নিতে পারবেন। এতে প্রতারণার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
আরও জেনে রাখুনঃ গ্রিসে বেতন কত
সার্বিয়া ভিসা হতে কতদিন লাগে?
অনেক আবেদনকারীর সাধারণ প্রশ্ন হলো, সার্বিয়া ভিসা হতে কতদিন লাগে। সাধারণভাবে বলতে গেলে, আপনার জমা দেওয়া কাগজপত্র যদি সঠিক থাকে, তাহলে সার্বিয়া ভিসা পেতে সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৪ মাস সময় লাগে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগতে পারে। যেমন—
- অতিরিক্ত ডকুমেন্ট চাওয়া হলে
- ব্যাকগ্রাউন্ড চেক দীর্ঘ হলে
- দূতাবাসে চাপ বেশি থাকলে
তাই ভিসার জন্য আবেদন করার সময় ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা জরুরি।
আরও জেনে রাখুনঃ দুবাই ওয়ার্ক পারমিট ভিসা
সার্বিয়া যেতে কত টাকা লাগে?
সার্বিয়া যেতে কত টাকা লাগবে তা নির্ভর করে আপনি কোন ক্যাটাগরির ভিসায় যাচ্ছেন তার উপর।
| ভিসার ধরন | আনুমানিক খরচ |
|---|---|
| কাজের ভিসা | ৭–৮ লক্ষ টাকা |
| ভ্রমণ ভিসা | ৩–৪ লক্ষ টাকা |
| স্টাডি ভিসা | ন্যূনতম ৪ লক্ষ টাকা |
এই খরচের মধ্যে ভিসা ফি, টিকিট, মেডিকেল, কাগজপত্র ও এজেন্সি ফি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সব খরচ পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়া উচিত।
আরও জেনে রাখুনঃ উজবেকিস্তানের বেতন কত
সার্বিয়া কোন কাজের চাহিদা বেশি
সার্বিয়াতে বর্তমানে বিভিন্ন সেক্টরে দক্ষ কর্মীর চাহিদা অনেক বেশি। আপনি যদি সার্বিয়া যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তাহলে নিচের কাজগুলোর যেকোনো একটিতে দক্ষতা অর্জন করলে ভালো সুযোগ পাবেন।
বেশি চাহিদাসম্পন্ন কাজ
- আইটি সেক্টর
- ইলেকট্রিশিয়ান
- ডেলিভারি ম্যান
- হোটেল ও রেস্টুরেন্ট জব
- ড্রাইভার
- কনস্ট্রাকশন
- বিক্রয় প্রতিনিধি
- ক্লিনার
- কৃষি কাজ
এছাড়াও স্বাস্থ্য সেবা, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন এবং উৎপাদন কারখানার কাজেও সার্বিয়াতে ভালো চাহিদা রয়েছে।
সার্বিয়া বেতন কত?
সার্বিয়াতে কাজের বেতন ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় মাঝারি হলেও জীবনযাত্রার খরচ তুলনামূলক কম। সাধারণভাবে একজন শ্রমিকের মাসিক বেতন ন্যূনতম ১ লাখ থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। যারা দক্ষ এবং অভিজ্ঞ, তারা মাসে প্রায় ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। কাজের ধরন, অভিজ্ঞতা ও ওভারটাইমের উপর বেতন নির্ভর করে।
সারকথা
সব মিলিয়ে বলা যায়, সার্বিয়া ভিসা নেওয়ার আগে এবং ভিসা হাতে পাওয়ার পর অবশ্যই সার্বিয়া ভিসা চেক করা উচিত। এতে করে নকল ভিসা ও প্রতারণা থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখা সম্ভব। আজকের এই গাইডে আমরা সার্বিয়া ভিসা চেক, অনলাইনে সার্বিয়া ভিসা যাচাই, ওয়ার্ক পারমিট, খরচ, কাজের চাহিদা ও বেতন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। তথ্যগুলো ভালোভাবে বুঝে সিদ্ধান্ত নিলে সার্বিয়া যাত্রা হবে অনেক নিরাপদ ও সহজ।
FAQ’s
সার্বিয়া ১ টাকা বাংলাদেশের কত টাকা?
সার্বিয়া ১ টাকা বাংলাদেশের প্রায় ১ টাকার সমান।
সার্বিয়া সর্বনিম্ন বেতন কত?
সার্বিয়াতে একজন কর্মীর সর্বনিম্ন বেতন প্রায় ১ লক্ষ টাকা।
সার্বিয়া যেতে বয়স কত লাগে?
ওয়ার্ক পারমিট ও স্টাডি ভিসায় সার্বিয়া যেতে আবেদনকারীর ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর হতে হবে।





