রমজান

রমজানে স্কুল ছুটি ২০২৬ (সর্বশেষ আপডেট তথ্য)

বাংলাদেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঘোষিত হলো রমজানে স্কুল ছুটি ২০২৬। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পবিত্র রমজানের ছুটি শুরু হতে যাচ্ছে। আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনে আমরা এই ছুটির বিস্তারিত সময়সূচী, মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন এবং কোন কোন দিবস উপলক্ষে এই দীর্ঘ ছুটি কার্যকর থাকবে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। রমজানে স্কুল ছুটি ২০২৬ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন মহলে যে ধোঁয়াশা ছিল, সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তার অবসান ঘটল।

আরও জানতে পারেনঃ সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬ লাইভ ও PDF : ঢাকা ও সারা বাংলাদেশের

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ সিদ্ধান্ত

আজ বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের সংশোধিত ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি চূড়ান্ত করা হয়েছে। বৈঠক শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে ছুটির বিষয়টি নিশ্চিত করে। মূলত পবিত্র রমজান মাস এবং এর পাশাপাশি আরও বেশ কিছু ধর্মীয় ও জাতীয় দিবসকে কেন্দ্র করেই এই ছুটির তালিকা সাজানো হয়েছে। রমজানে স্কুল ছুটি ২০২৬ এর এই তালিকায় এবার দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ছুটি পাচ্ছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

সংশোধিত ছুটির তালিকা ও প্রজ্ঞাপন

মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত দেশের সকল স্তরের বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ থাকবে। এর আগে পূর্বঘোষিত একটি তালিকায় রমজানের প্রথম কয়েকদিন ক্লাস চালু রাখার কথা বলা হয়েছিল, যা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। তবে বর্তমান সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী, আগামীকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা ছুটির আমেজে প্রবেশ করছে। এই ছুটির আওতায় দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ছুটির বিস্তারিত ক্যালেন্ডার: ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ

এবারের ছুটিতে কেবল রমজান নয়, বরং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিবস একই সময়ে পড়েছে। মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ী যে সকল কারণে এই ছুটি কার্যকর থাকবে সেগুলো হলো:

  • পবিত্র রমজান মাস
  • শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব দিবস
  • পবিত্র শবে কদর
  • জুমাতুল বিদা
  • পবিত্র ঈদুল ফিতর
  • স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস (২৬ মার্চ)

রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিশেষ সূচী

সাধারণত রমজান মাসে রোজা রেখে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াত করা কিছুটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন গরম এবং যাতায়াত ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করে সরকার এই ছুটির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের দিন পর্যন্ত এই ছুটি চলবে। অর্থাৎ ২৭ মার্চ থেকে পুনরায় নিয়মিত ক্লাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও ঈদ পরবর্তী সময়ে স্কুল খোলার তারিখ প্রজ্ঞাপনে পুনরায় নিশ্চিত করা হবে।

আদালত ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের টানাপোড়েন

রমজানে স্কুল ছুটি ২০২৬ বিষয়টি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আরও কিছুদিন ক্লাস চলার কথা থাকলেও বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের দাবির মুখে এবং আইনি প্রক্রিয়ার প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের পূর্বের অবস্থান থেকে সরে এসে সংশোধিত ছুটির তালিকা প্রকাশ করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং জনস্বার্থ বিবেচনা করে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকেই ছুটি কার্যকর করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় প্রভাব ও প্রস্তুতি

দীর্ঘ এই ছুটির কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে অনেক স্কুল থেকে বিশেষ ‘Home Task’ বা বাড়ির কাজ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, ছুটির এই সময়ে অনলাইন ক্লাসের কোনো নির্দেশনা না থাকলেও শিক্ষার্থীরা যেন বাড়িতে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যায়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যারা আগামী বছরের বোর্ড পরীক্ষার্থী, তাদের জন্য এই ছুটিটি প্রস্তুতির একটি বড় সুযোগ হতে পারে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ছুটির ভিন্নতা

আগে অনেক সময় দেখা যেত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটি এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটির মধ্যে কয়েক দিনের পার্থক্য থাকে। তবে ২০২৬ সালের এই সংশোধিত তালিকায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সমন্বয় করে একই দিনে ছুটি ঘোষণা করেছে। এতে করে একই পরিবারের একাধিক শিক্ষার্থী যারা ভিন্ন ভিন্ন স্তরে পড়াশোনা করে, তাদের এবং তাদের অভিভাবকদের জন্য পরিকল্পনা করা সহজ হবে।

রমজানে স্কুল ছুটির গুরুত্ব

বাংলাদেশে রমজান মাসের একটি আলাদা ধর্মীয় ও সামাজিক গুরুত্ব রয়েছে। এই মাসে পরিবারগুলো একসাথে সময় কাটাতে পছন্দ করে। বিশেষ করে সেহরি ও ইফতারের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর যেন অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। রমজানে স্কুল ছুটি ২০২৬ এর এই সিদ্ধান্তটি সর্বস্তরের মানুষের কাছে ইতিবাচক হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ২৬ মার্চের ছুটি

এবারের রমজানের ছুটির মধ্যেই ২৬ মার্চ অর্থাৎ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পড়েছে। ফলে এই জাতীয় দিবসটি এবার ছুটির আবহের মধ্যেই পালিত হবে। তবে স্কুলগুলোতে ২৬ মার্চের বিশেষ অনুষ্ঠান বা দোয়া মাহফিল সীমিত পরিসরে পালিত হতে পারে কি না, তা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে।

বিগত বছরের সাথে ছুটির তুলনা

গত কয়েক বছরের তুলনায় ২০২৬ সালের রমজানের ছুটি কিছুটা আগেভাগেই শুরু হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং মাত্রাতিরিক্ত গরমের কথা চিন্তা করে সরকার ইদানিং ছুটির ক্যালেন্ডারে নমনীয়তা প্রদর্শন করছে। এর ফলে একদিকে যেমন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় থাকছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষাও নিশ্চিত হচ্ছে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (Q&A)

রমজানে স্কুল ছুটি ২০২৬ কবে থেকে শুরু হচ্ছে?

দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রমজানের ছুটি আগামীকাল ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হচ্ছে।

স্কুল পুনরায় কবে খুলবে?

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত ছুটি থাকবে। তবে ২৭ মার্চ শুক্রবার হওয়ায় এবং ঈদ পরবর্তী সূচী অনুযায়ী বিদ্যালয় খোলার সঠিক তারিখ স্কুল কর্তৃপক্ষ নোটিশের মাধ্যমে জানিয়ে দেবে।

এই ছুটি কি কেবল সরকারি স্কুলের জন্য?

না, এই ছুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়—সবার জন্যই প্রযোজ্য।

মাদরাসা কি এই ছুটির আওতাভুক্ত?

সাধারণত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা আলিয়া মাদরাসাগুলো এই একই ছুটির পঞ্জি অনুসরণ করে। তবে কওমি মাদরাসাগুলো তাদের নিজস্ব শিক্ষা বোর্ড অনুযায়ী ছুটি নির্ধারণ করে থাকে।

শবে কদর ও জুমাতুল বিদার ছুটি কি আলাদা?

না, ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চের যে দীর্ঘ ছুটির তালিকা দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যেই শবে কদর, জুমাতুল বিদা এবং ঈদুল ফিতরের ছুটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

শেষ কথা

পরিশেষে বলা যায়, রমজানে স্কুল ছুটি ২০২৬ এর এই ঘোষণাটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে সরকার শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ছুটি চলবে ২৬ মার্চ পর্যন্ত। এই সময়ে শিক্ষার্থীরা যেন কেবল অলস সময় না কাটিয়ে ধর্মীয় শিক্ষা ও সৃজনশীল কাজে নিজেদের নিয়োজিত রাখে, সেটাই কাম্য। আমরা আশা করি, এই দীর্ঘ ছুটির পর শিক্ষার্থীরা নতুন উদ্যমে আবার তাদের পাঠদানে ফিরে আসবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button