অপ্রত্যাশিত সমস্যার জন্য দুঃখিত। একটু পরে আবার চেষ্টা করুন। — এই সমস্যাটির সমাধান কিভাবে করতে হয় বিস্তারিত জানতে পারবেন এই পোস্টে।
ভোটার আইডি কার্ড চেক করতে বা ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে গেলে আমরা অনেক সময় অপ্রত্যাশিত সমস্যার জন্য দুঃখিত। একটু পরে আবার চেষ্টা করুন। সমস্যার সম্মুখীন হই। এই সমস্যার কারণে একাউন্ট রেজিস্টার করা যায়না। ফলে, এনআইডি সংক্রান্ত কোনো সেবা পাওয়া যায়না।
কিভাবে এই সমস্যাটির সমাধান করতে হবে জানতে হলে শেষ অব্দি পড়তে হবে।
অপ্রত্যাশিত সমস্যার জন্য দুঃখিত। একটু পরে আবার চেষ্টা করুন।
এই সমস্যাটি মূলত তিনটি কারণে দেখা দিয়ে থাকে। এগুলো হচ্ছে —
এনআইডি নাম্বার/ফরম নাম্বার বা জন্ম তারিখ ভুল লিখলে
এনআইডি হওয়ার পূর্বে একাউন্ট নিবন্ধন করার চেষ্টা করলে
এনআইডি সার্ভারে সমস্যা হলে
এই সমস্যাটি বিভিন্ন কারণে এসে থাকে। এনআইডি কার্ড চেক করতে বা ডাউনলোড করতে গেলে এই সমস্যার সম্মুখীন হলে আপনার দেয়া তথ্য যাচাই করুন। এনআইডি নাম্বার অথবা ফরম নাম্বার ঠিকভাবে লিখেছেন কিনা। ফরম নাম্বার লিখে থাকলে সামনে NIDFN লিখেছেন কিনা যাচাই করুন।
ফরম নাম্বার লেখার সময় NIDFN লিখে ফাঁকা না রেখেই ফরম নাম্বার লিখতে হবে। এছাড়া, জন্ম তারিখের ফরম্যাট ঠিক আছে কিনা যাচাই করুন। দিন-মাস-বছর এই ফরম্যাটে জন্ম তারিখ লিখতে হবে।
এছাড়া, ক্যাপচা কোড ঠিকভাবে পূরণ করেছেন কিনা যাচাই করুন। এসব সমস্যার কারণে অনেক সময় এই ইরর দেখা দিয়ে থাকে। যদি তথ্য ভুল থাকে, সংশোধন করে আবারও চেষ্টা করুন। সমস্যাটি সমাধান হয়ে যাবে।
তবে, এরপরেও যদি এই সমস্যাটি থেকে যায়, তাহলে কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। এনআইডি সার্ভারে সমস্যা হলে অনেক সময় এই ইরর দেখা দিয়ে থাকে।
এছাড়া, আপনি যদি নতুন ভোটার হয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে আপনার ভোটার আইডি কার্ড তৈরি হওয়ার পূর্বে যদি এনআইডি একাউন্ট রেজিস্টার করার চেষ্টা করেন, তাহলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
উপরোক্ত এই কাজগুলো করলে অপ্রত্যাশিত সমস্যার জন্য দুঃখিত। একটু পরে আবার চেষ্টা করুন। সমস্যাটি সমাধান হয়ে যাবে।
বাংলাদেশে একজন নাগরিকের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা NID Card একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ব্যাংক একাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে সরকারি যেকোনো সুযোগ-সুবিধা পেতে এর কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে যারা নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করছেন, তাদের মনে একটিই প্রশ্ন—ছবি তোলার বা বায়োমেট্রিক দেওয়ার ঠিক কতদিন পর এনআইডি কার্ড হাতে পাওয়া যায়। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়মিতভাবে এই প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন করছে, যার ফলে এখন আগের চেয়ে অনেক দ্রুত ভোটার আইডি কার্ড পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
সাধারনত, আপনি যদি সরাসরি উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করেন, তবে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করার পর ২১ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপনার ভোটার আইডি কার্ড অনলাইনে চলে আসে। তবে যারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তথ্য হালনাগাদ কার্যক্রমের আওতায় নিবন্ধন করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে। একটি নতুন এনআইডি কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়াটি মূলত কয়েকটা ধাপে সম্পন্ন হয়। এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত জানাব ভোটার আইডি কার্ড পেতে কতদিন লাগে এবং দ্রুত পাওয়ার উপায়গুলো কী কী।
একটি ভোটার আইডি কার্ড আবেদন করার পর তা হাতে পাওয়া পর্যন্ত বেশ কিছু অফিসিয়াল ধাপ অতিক্রম করতে হয়। নির্বাচন কমিশন আপনার দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করার পর সেটি ডাটাবেজে আপলোড করে। এই ধাপগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. তথ্য সংগ্রহ ও ফরম পূরণ
প্রথম ধাপে আপনাকে ভোটার নিবন্ধন ফরম ২ পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন—জন্ম নিবন্ধন সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ এবং বাবা-মায়ের এনআইডির কপি জমা দিতে হয়। এটি আপনি সরাসরি উপজেলা নির্বাচন অফিসে বা ঢাকা আগারগাঁও অফিসে জমা দিতে পারেন।
২. বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট
কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর আপনাকে একটি নির্দিষ্ট তারিখ দেওয়া হবে ছবি তোলা এবং আঙ্গুলের ছাপ দেওয়ার জন্য। বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের সময় আপনার:
রঙিন ছবি তোলা হয়।
দশ আঙ্গুলের ছাপ নেওয়া হয়।
চোখের আইরিশ স্ক্যান করা হয়।
সবশেষে আপনাকে একটি ভোটার নিবন্ধন ফরমের অংশ বা স্লিপ (টোকেন) দেওয়া হয়। এটি অত্যন্ত যত্ন সহকারে রাখতে হবে কারণ এটি দিয়েই পরে কার্ড ডাউনলোড করতে হয়।
৩. ডাটা ভেরিফিকেশন ও আপলোড
আপনার বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা সেটি যাচাই করেন। যদি তথ্যে কোনো ভুল না থাকে, তবে তা এনআইডি সার্ভারে আপলোড করা হয়। এই ধাপটি সম্পন্ন হতে সাধারণত ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগে।
ভোটার আইডি কার্ড পেতে কতদিন লাগে তার সঠিক সময়সীমা
অনেকেই জানতে চান নির্দিষ্টভাবে কত দিনের মাথায় কার্ডটি পাওয়া যাবে। কাজের ধরন অনুযায়ী সময় কম-বেশি হতে পারে। নিচে একটি ছকের মাধ্যমে সময়ের ধারণা দেওয়া হলো:
নিবন্ধনের ধরন
সম্ভাব্য সময়সীমা
সরাসরি উপজেলা অফিসে আবেদন
২১ থেকে ৩০ দিন
বাড়ি বাড়ি তথ্য হালনাগাদ কার্যক্রম
৩ থেকে ৬ মাস
জরুরি বা বিশেষ আবেদন
১৫ থেকে ২০ দিন
স্মার্ট কার্ড বিতরণ
নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই (ইসির ঘোষণা সাপেক্ষে)
ছবি তোলার কতদিন পর এনআইডি কার্ড পাওয়া যায়?
বায়োমেট্রিক বা ছবি তোলার পর সাধারণত ২১ থেকে ৩০ দিন অপেক্ষা করতে হয়। তবে অনেক সময় সার্ভারের কাজের চাপের কারণে এটি ৪০ দিন পর্যন্ত হতে পারে। আপনার আবেদনটি যদি সঠিকভাবে অনুমোদিত হয়, তবে আপনি আপনার মোবাইল ফোনে ১০৫ নম্বর থেকে একটি এসএমএস পাবেন। এসএমএস পাওয়ার পর আপনি অনলাইন থেকে আপনার এনআইডি কার্ডের কপি ডাউনলোড করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশন মাঝেমধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে। এই পদ্ধতিতে সময় একটু বেশি লাগে কারণ এখানে বিশাল সংখ্যক মানুষের তথ্য একসাথে প্রসেস করা হয়।
তথ্য হালনাগাদের ৬টি প্রধান ধাপ:
১. তথ্য সংগ্রহ: তথ্যসংগ্রহকারী আপনার বাড়িতে গিয়ে প্রাথমিক তথ্য ফরম পূরণ করবেন।
২. ফরম পুনঃযাচাইকরণ: সুপারভাইজার আপনার তথ্যগুলো পুনরায় চেক করবেন।
৩. নিবন্ধন কেন্দ্রে বায়োমেট্রিক: নির্দিষ্ট কেন্দ্রে গিয়ে ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে হয়।
৪. বিশেষ ভোটারদের নিবন্ধন: অসুস্থ, প্রতিবন্ধী বা জেলখানায় থাকা ভোটারদের আলাদাভাবে নিবন্ধন করা।
৫. উপজেলা সার্ভারে প্রসেসিং: সব তথ্য ডিজিটাল ডাটাবেজে এন্ট্রি করা।
৬. খসড়া তালিকা প্রকাশ: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে একটি খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয় যাতে কেউ ভুল থাকলে সংশোধন করতে পারে।
স্মার্ট কার্ড পেতে কতদিন লাগে?
বর্তমানে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সাধারণ লেমিনেটিং করা কার্ডের পরিবর্তে চিপযুক্ত স্মার্ট কার্ড প্রদান করছে। তবে মনে রাখবেন, নতুন ভোটার হওয়ার সাথে সাথেই স্মার্ট কার্ড পাওয়া যায় না। স্মার্ট কার্ড মুদ্রণ ও বিতরণ একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া।
নির্বাচন কমিশন যখন এলাকাভিত্তিক স্মার্ট কার্ড বিতরণের ঘোষণা দেয়, কেবল তখনই সেটি সংগ্রহ করা যায়। বর্তমানে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যারা ভোটার হয়েছেন, তাদের স্মার্ট কার্ড বিতরণের কাজ পর্যায়ক্রমে চলছে। তবে যারা দ্রুত এনআইডি ব্যবহার করতে চান, তারা অনলাইন থেকে সাধারণ এনআইডি কপি ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারেন। এর কার্যকারিতা স্মার্ট কার্ডের মতোই।
অনলাইন থেকে এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করার নিয়ম
ভোটার আইডি কার্ড অনলাইনে চলে আসলে আপনি খুব সহজেই তা ডাউনলোড করতে পারেন। এর জন্য নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করুন:
১. রেজিস্ট্রেশন: এনআইডি সার্ভিসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার ফরম নম্বর বা এনআইডি নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিয়ে সাইন আপ করুন।
৩. পাসওয়ার্ড সেট: আপনার অ্যাকাউন্টের জন্য একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড সেট করুন।
৪. ডাউনলোড: প্রোফাইলে প্রবেশ করে ‘ডাউনলোড’ বাটনে ক্লিক করলে আপনার এনআইডি কার্ডের পিডিএফ কপি ডাউনলোড হয়ে যাবে।
এনআইডি কার্ড পেতে দেরি হওয়ার কারণসমূহ
কখনো কখনো ৩০ দিন পার হয়ে গেলেও কার্ড অনলাইনে পাওয়া যায় না। এর কিছু সাধারণ কারণ হতে পারে:
তথ্যাদি ভুল থাকা: আপনার দেওয়া তথ্যের সাথে বাবা-মায়ের তথ্যের মিল না থাকলে ফাইল আটকে যেতে পারে।
ডুপ্লিকেট ভোটার: আপনি যদি আগে কখনো ভোটার হয়ে থাকেন এবং পুনরায় আবেদন করেন, তবে আপনার আবেদন বাতিল বা স্থগিত হতে পারে।
সার্ভার জটিলতা: মাঝেমধ্যে ইসির মেইন সার্ভারে কারিগরি সমস্যার কারণে ডাটা আপডেট হতে সময় লাগে।
এলাকাভিত্তিক জট: বড় বড় শহরে ভোটারের সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রসেসিংয়ে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে।
প্রশ্ন-উত্তর (FAQ)
u003cstrongu003eআমি ভোটার হওয়ার ১৫ দিন হয়ে গেছে কিন্তু এসএমএস পাইনি, কেন?u003c/strongu003e
সাধারণত ২১ থেকে ৩০ দিন সময় লাগে। দয়া করে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করুন অথবা ১০৫ নম্বরে কল করে আপনার আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানুন।
u003cstrongu003e অনলাইন কপি কি সব কাজে ব্যবহার করা যাবে?u003c/strongu003e
হ্যাঁ, অনলাইন থেকে ডাউনলোড করা এনআইডি কার্ডের কপিটি লেমিনেটিং করে আপনি ব্যাংক একাউন্ট, সিম কার্ড ক্রয় এবং সরকারি সকল কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।
u003cstrongu003eভোটার স্লিপ বা টোকেন হারিয়ে গেলে কি কার্ড পাওয়া যাবে?u003c/strongu003e
হ্যাঁ, সেক্ষেত্রে আপনাকে থানায় একটি জিডি করতে হবে এবং জিডি কপি নিয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করলে তারা আপনাকে এনআইডি নম্বর সরবরাহ করবে।
u003cstrongu003eস্মার্ট কার্ড পেতে কি কোনো টাকা লাগে?u003c/strongu003e
নতুন ভোটারদের জন্য প্রথমবার স্মার্ট কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। তবে কার্ড হারিয়ে ফেললে বা সংশোধন করলে নির্দিষ্ট ফি জমা দিতে হয়।
শেষ কথা
পরিশেষে বলা যায়, ভোটার আইডি কার্ড পেতে কতদিন লাগে তা নির্ভর করে আপনি কোন পদ্ধতিতে আবেদন করছেন তার ওপর। ব্যক্তিগতভাবে উপজেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করলে ৩০ দিনের মধ্যেই এনআইডি পাওয়া সম্ভব। স্মার্ট কার্ড পেতে দেরি হলেও অনলাইন কপি আপনার জরুরি প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম। তাই ধৈর্য ধরে ইসির মেসেজের জন্য অপেক্ষা করুন এবং নিয়মিত এনআইডি পোর্টালে আপনার আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করুন। ডিজিটাল বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে এনআইডি কার্ড আপনার অন্যতম অধিকার, যা আপনার জাতীয় পরিচয় নিশ্চিত করে।
NID সংশোধন করার জন্য আবেদন করেছেন কিন্তু এখন বাতিল করতে চাচ্ছেন? কিভাবে বাতিল করতে হয় জানেন না? তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্যই।
বিভিন্ন প্রয়োজনে অনেকেই এনআইডি সংশোধন করার জন্য আবেদন করে থাকি। কিন্তু, সমস্যা সমাধান হয়ে গেলে উক্ত আবেদনটি বাতিল করার প্রয়োজন পড়ে। অথবা, NID সংশোধন করার জন্য আবেদন করেছেন কিন্তু সেখানেও ভুল তথ্য দিয়েছেন, সেক্ষেত্রে আবেদনটি বাতিল করতে হবে।
নয়তো, আইডি কার্ড সংশোধন হবে কিন্তু আপনার ভুল তথ্য সংশোধন হবেনা। তাই, ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন আবেদন বাতিল করার নিয়ম জানা আবশ্যক। চলুন, বিস্তারিত পদ্ধতি জেনে নেয়া যাক।
NID সংশোধন আবেদন বাতিল করার নিয়ম
NID সংশোধন আবেদন বাতিল করার জন্য নির্বাচন কমিশন অফিসে কর্মরত অফিসার বরাবর একটি দরখাস্ত লিখতে হবে। উক্ত দরখাস্তে আপনার পুরো নাম, পিতা-মাতার নাম এবং এনআইডি নাম্বার লিখতে হবে। এছাড়া, আপনি কী কারণে সংশোধন আবেদন বাতিল করতে চাচ্ছেন তা উল্লেখ করতে হবে।
পাশাপাশি কত তারিখে সংশোধনের জন্য আবেদন করেছেন, আবেদন সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য যদি যুক্ত করতে পারেন, তাহলে করতে হবে। এভাবে একটি আবেদনপত্র লিখে আবেদনটি জমা দিতে হবে নির্বাচন কমিশন অফিসে। তাহলে, আপনার সংশোধন আবেদন বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সংশোধন আবেদন করার পর আপনি কী ধরনের তথ্য সংশোধন করার জন্য আবেদন করেছেন, তার উপর ভিত্তি করে আবেদনটি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। ক্যাটাগরিতে ভাগ হওয়ার আগে যদি সংশোধন আবেদন বাতিলের জন্য দরখাস্ত করেন, তাহলে ক্যাটাগরিতে ভাগ হয়ে গেলেই আপনার আবেদনটি বাতিল হয়ে যাবে।
তবে, ক্যাটাগরিতে ভাগ হয়ে যাওয়ার পর যদি আপনি আবেদন করেন এবং আপনার আবেদন পৌঁছানোর পূর্বে তথ্য সংশোধন হয়ে থাকে, তাহলে আবেদনটি অনুমোদন হবেনা। সেক্ষেত্রে, আপনাকে আবারও নতুন করে ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য সংশোধন করতে হবে।
NID সংশোধন আবেদন বাতিল করার আবেদনপত্র
তারিখ: ০৯/০২/২০২৫ বরাবর, উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিসার ফেনী সদর, ফেনী
বিষয়: NID সংশোধন আবেদন বাতিল করার আবেদন
মহোদয়, বিনীত নিবেদন এই যে, আমি রিফাত মিয়া, পিতা: মজিবার রহমান, গ্রাম/মহল্লা: বালাবাড়ি পশ্চিম পাড়া, ডাকঘর: বালাবাড়া-৫৬০০, জেলা: ফেনী সদর, বিগত ০৪/০২/২০২৫ তারিখে অনলাইনে আমার ভোটার আইডি কার্ডের ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করেছিলাম। আমার NID নম্বর 6584215369, জন্মতারিখ: ১২/০৮/২০০২ ইং। আমার আবেদনটি এখনো পেন্ডিং অবস্থায় আছে।
আমার এনআইডি কার্ড সংশোধনের আবেদন করার সময় অনিচ্ছাবশত ভুল তথ্য দিয়েছি। ফলে, আমার NID সংশোধন আবেদনটি বাতিল করতে চাচ্ছি।
অতএব, মহোদয়ের নিকট আকুল আবেদন এই যে, NID সংশোধন আবেদনটি বাতিল করে আমাকে বাধিত করবেন।
NID সংশোধন আবেদন বাতিল করার জন্য নির্বাচন কমিশন অফিসার বরাবর একটি আবেদন করতে হয়। অনেকেই আবেদন পত্র লেখার নিয়ম জানেন না। তাই, নিচে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন আবেদন বাতিল করার আবেদন ফরম PDF শেয়ার করা হয়েছে।
আপনারা চাইলে এই পিডিএফ দেখে একটি আবেদনপত্র লিখতে পারেন। অথবা, পিডিএফ ফাইলটি ডাউনলোড করে কম্পিউটার দিয়ে প্রিন্ট করে নিয়ে সেটি পূরণ করে আবেদন করতে পারেন।
Download আইকনে বা লেখায় ক্লিক করে পিডিএফ ফাইলটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। এরপর, প্রিন্টার দিয়ে প্রিন্ট করে নিন। এছাড়া, আপনি চাইলে উপরে উল্লেখ করে দেয়া এনআইডি সংশোধন আবেদন বাতিল করার আবেদনপত্র লেখার নিয়মটি অনুসরণ করেও কম্পিউটার কম্পোজ করে নিতে পারবেন।
সারকথা
NID Card সংশোধন আবেদন বাতিল করার নিয়ম নিয়ে এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। যারা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের জন্য আবেদন করেছেন কিন্তু এখন বাতিল করতে চাচ্ছেন, তারা পোস্টে উল্লিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গণতান্ত্রিক এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব। তবে নির্বাচনের আগে অনেক ভোটারই একটি সাধারণ সমস্যায় পড়েন, আর তা হলো নিজের ভোটকেন্দ্র খুঁজে না পাওয়া। ঢাকা-১০ আসনের ভোটার শামিমা নাসরিনের মতো আরও অনেক ভোটার আছেন যারা এখনো জানেন না তাদের ভোট দেওয়ার নির্দিষ্ট স্থানটি কোথায়। সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি দূর করতে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) ৪টি কার্যকর উপায় বাতলে দিয়েছে। আজকের এই বিস্তারিত নিবন্ধে আমরা ভোটার এলাকার নাম ও নাম্বার বের করার নিয়ম এবং ভোটকেন্দ্র খুঁজে পাওয়ার পদ্ধতিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
২০২৬ সালের নির্বাচনের গুরুত্ব ও ভোটারের প্রস্তুতি
নির্বাচন কমিশন ইতিপূ্র্বেই ঘোষণা করেছে যে, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের সুবিধার্থে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানার জন্য চারটি ভিন্ন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে আপনি ঘরে বসেই আপনার এলাকার নাম ও কেন্দ্রের ঠিকানা পেয়ে যাবেন। ভোটার এলাকার নাম ও নাম্বার বের করার নিয়ম জানা থাকলে আপনাকে আর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা পরিচিতদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে না। নির্ভুল তথ্যের মাধ্যমে আপনি সহজেই আপনার সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
ভোটার এলাকার নাম ও নাম্বার বের করার নিয়ম
নির্বাচন কমিশন যে চারটি পদ্ধতির কথা বলেছে, সেগুলো অত্যন্ত সহজ এবং যেকোনো সাধারণ মানুষ মোবাইল বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে তা ব্যবহার করতে পারবেন। নিচে প্রতিটি পদ্ধতি ধাপে ধাপে আলোচনা করা হলো:
বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন ব্যবহারের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে ইসি লঞ্চ করেছে ‘Smart Election Management BD App’। এই অ্যাপের মাধ্যমে আপনি সবচেয়ে দ্রুত আপনার তথ্য পেতে পারেন।
কিভাবে ব্যবহার করবেন:
১. প্রথমে আপনার স্মার্টফোনের গুগল প্লে স্টোর (Google Play Store) বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর (App Store) এ গিয়ে সার্চ বারে ‘Smart Election Management BD’ লিখে অ্যাপটি ডাউনলোড এবং ইনস্টল করুন।
২. অ্যাপটি ওপেন করার পর ড্যাশবোর্ড থেকে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ অপশনটি বেছে নিন।
৩. এখানে আপনি ‘ভোটকেন্দ্র খুঁজুন’ নামক একটি মেনু দেখতে পাবেন, সেখানে ক্লিক করুন।
৪. আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর এবং সঠিক জন্মতারিখ ইনপুট দিন।
৫. অনুসন্ধান বাটনে ক্লিক করলেই আপনার ভোটার নম্বর, ভোটার ক্রমিক নম্বর, ভোটকেন্দ্রের নাম এবং সুনির্দিষ্ট ঠিকানা স্ক্রিনে চলে আসবে।
এই অ্যাপটি গুগল ম্যাপের সাথে যুক্ত থাকায় আপনি ভোটকেন্দ্রের লোকেশনও সরাসরি দেখতে পাবেন। এটিই বর্তমানে সবচেয়ে আধুনিক ভোটার এলাকার নাম ও নাম্বার বের করার নিয়ম হিসেবে পরিচিত।
পদ্ধতি-২: ১০৫ হটলাইন নম্বর (Hotline Number 105)
যাদের স্মার্টফোন নেই বা যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, তাদের জন্য ১০৫ হটলাইন নম্বরটি আশীর্বাদস্বরূপ। এটি সরাসরি ইসির হেল্পডেস্কের সাথে আপনাকে যুক্ত করবে।
কিভাবে তথ্য জানবেন:
১. আপনার মোবাইলের ডায়াল প্যাডে গিয়ে ১০৫ লিখে কল দিন।
২. কল করার পর নির্দেশনা অনুযায়ী অপারেটরের সাথে কথা বলার জন্য ৯ বাটনটি চাপুন।
৩. অপারেটর আপনার এনআইডি নম্বর এবং জন্মতারিখ জানতে চাইবেন।
৪. তথ্যগুলো সঠিকভাবে দেওয়ার পর তারা আপনাকে ভোটার এলাকা, নম্বর এবং কেন্দ্রের নাম জানিয়ে দেবেন।
মনে রাখবেন, এই সেবাটি প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চালু থাকে। ভোটার এলাকার নাম ও নাম্বার বের করার নিয়ম সম্পর্কে সরাসরি মানুষের সাথে কথা বলে জানার এটিই সেরা মাধ্যম।
পদ্ধতি-৩: এসএমএস (SMS) সেবা
খুদে বার্তার মাধ্যমে তথ্য জানা সবসময়ই জনপ্রিয়। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য এটি খুব কার্যকর। মাত্র কয়েক পয়সা খরচ করে আপনি আপনার ভোটকেন্দ্রের তথ্য মোবাইল স্ক্রিনে পেতে পারেন।
কিভাবে এসএমএস করবেন:
১. আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে যান।
২. বড় হাতের অক্ষরে লিখুন ‘PC NID’ তারপর একটি স্পেস দিয়ে আপনার এনআইডি নম্বরটি লিখুন। (উদাহরণ: PC NID 1234567890)।
৩. মেসেজটি পাঠিয়ে দিন ১০৫ নম্বরে।
৪. ফিরতি একটি এসএমএসে আপনাকে আপনার ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের নাম জানিয়ে দেওয়া হবে।
এই পদ্ধতিতে কোনো ইন্টারনেটের প্রয়োজন হয় না, ফলে সাধারণ বা বাটন ফোন ব্যবহারকারীরা সহজেই উপকৃত হতে পারেন।
পদ্ধতি-৪: নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট (Election Commission Website)
যাদের কাছে ল্যাপটপ বা কম্পিউটার আছে, তারা ইসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করে বিস্তারিত তথ্য পেতে পারেন।
ওয়েবসাইটে তথ্য খোঁজার নিয়ম:
১. আপনার ব্রাউজারে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.ecs.gov.bd) ভিজিট করুন।
২. হোমপেজে থাকা ‘ভোটকেন্দ্র’ বা ‘ভোটার তথ্য’ মেনুতে ক্লিক করুন।
৩. সেখানে আপনি নির্বাচনী এলাকা বা উপজেলা ভিত্তিক তালিকা দেখতে পাবেন।
৪. অথবা আপনার এনআইডি এবং জন্মতারিখ ব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে অনুসন্ধান করতে পারেন।
এই ওয়েবসাইটের বিশেষ সুবিধা হলো আপনি গুগল ম্যাপের মাধ্যমে আপনার বাসা থেকে ভোটকেন্দ্রের দূরত্ব কত এবং যাওয়ার সহজ পথ কোনটি তা বিস্তারিত দেখে নিতে পারবেন। ভোটার এলাকার নাম ও নাম্বার বের করার নিয়ম ডিজিটাল পদ্ধতিতে জানার ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস।
ভোটার তথ্য ও কেন্দ্র অনুসন্ধানের তুলনামূলক তালিকা
মাধ্যম
প্রয়োজনীয় তথ্য
সময়
সুবিধা
স্মার্ট অ্যাপ
এনআইডি ও জন্মতারিখ
২৪ ঘণ্টা
ম্যাপে লোকেশন দেখা যায়
হটলাইন (১০৫)
এনআইডি ও জন্মতারিখ
সকাল ৬টা – রাত ১২টা
কথা বলে তথ্য জানা যায়
এসএমএস সেবা
এনআইডি নম্বর
২৪ ঘণ্টা
ইন্টারনেট ছাড়াই সম্ভব
ইসি ওয়েবসাইট
এনআইডি বা এলাকা
২৪ ঘণ্টা
বিস্তারিত তালিকা পাওয়া যায়
ভোটার তথ্য অনুসন্ধানে সাধারণ সমস্যা ও সমাধান
অনেকেই অভিযোগ করেন যে, এনআইডি নম্বর দেওয়ার পরেও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এর কিছু সাধারণ কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, আপনার জন্মতারিখ এনআইডি কার্ডে যেভাবে আছে ঠিক সেভাবেই দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, স্মার্ট কার্ড বা পুরাতন এনআইডি কার্ডের নম্বরের ডিজিট সংখ্যা খেয়াল করতে হবে। এছাড়া সার্ভারে ট্রাফিক বেশি থাকলে কিছু সময় অপেক্ষা করে পুনরায় চেষ্টা করা উচিত। ভোটার এলাকার নাম ও নাম্বার বের করার নিয়ম অনুসরণ করার সময় তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি।
কেন আগেভাগেই ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানা জরুরি?
নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে গিয়ে হুড়োহুড়ি বা বিভ্রান্তি এড়াতে আগে থেকেই কেন্দ্র চিনে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষ করে এবারের নির্বাচনে ভোটারদের ডিজিটাল প্রোফাইল এবং ভোটার স্লিপের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি হতে পারে। আপনি যদি আপনার ভোটার নম্বর ও ক্রমিক নম্বর আগে থেকেই লিখে রাখেন, তবে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা দ্রুত আপনাকে শনাক্ত করতে পারবেন। এতে আপনার সময় বাঁচবে এবং ভোটিং প্রক্রিয়া সহজ হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই গণভোট
২০২৬ সাল বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য একটি বিশেষ বছর। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই মাসে জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে ভোট দেওয়ার জন্য আপনার ভোটার এলাকা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা আবশ্যক। নির্বাচন কমিশন থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সীমান্ত সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন।
প্রশ্ন-উত্তর সেকশন (FAQs)
u003cstrongu003eভোটার এলাকার নাম ও নাম্বার বের করার নিয়ম কি সবার জন্য একই?u003c/strongu003e
হ্যাঁ, বাংলাদেশের সকল নিবন্ধিত ভোটার উল্লেখিত ৪টি পদ্ধতির যেকোনো একটি ব্যবহার করে তাদের তথ্য জানতে পারবেন।
u003cstrongu003e ১০৫ নম্বরে কল করতে কি টাকা কাটে?u003c/strongu003e
সাধারণত এটি একটি টোল-ফ্রি নম্বর হওয়ার কথা, তবে মোবাইল অপারেটর ভেদে সামান্য চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।
u003cstrongu003eআমার এনআইডি নম্বর ১৭ ডিজিটের, আমি কিভাবে এসএমএস করব?u003c/strongu003e
১৭ ডিজিটের এনআইডি নম্বর সরাসরি ব্যবহার করা যায়। তবে যদি ১৩ ডিজিটের হয়, তবে তার আগে আপনার জন্মসাল যোগ করে নিতে হতে পারে।
u003cstrongu003eভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের কোনো সুযোগ আছে কি?u003c/strongu003e
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সাধারণত কেন্দ্র পরিবর্তন করা যায় না। তবে আপনি যদি স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে থাকেন এবং নির্বাচনের আগে আবেদন করে থাকেন, তবে তথ্য হালনাগাদ হতে পারে।
u003cstrongu003eস্মার্ট অ্যাপটি কি নিরাপদ?u003c/strongu003e
জি, ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ অ্যাপটি নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব অ্যাপ, তাই আপনার ব্যক্তিগত তথ্য এখানে সম্পূর্ণ নিরাপদ।
শেষ কথা
ভোট দেওয়া কেবল নাগরিক অধিকার নয়, এটি একটি জাতীয় দায়িত্ব। আপনার একটি ভোটই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের নেতৃত্ব। তাই বিভ্রান্তি এড়িয়ে সঠিক সময়ে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে আজই ইসির নির্দেশিত পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে আপনার ভোটার তথ্য সংগ্রহ করুন। আজকের আলোচনায় আমরা ভোটার এলাকার নাম ও নাম্বার বের করার নিয়ম নিয়ে যেসব তথ্য দিয়েছি, তা অনুসরণ করলে আপনি সহজেই আপনার গন্তব্য খুঁজে পাবেন। মনে রাখবেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার আমাদের জীবনকে আরও সহজ করে দেয়। ২০২৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিন এবং দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করুন।
ভোটার নিবন্ধন করার পর ছবি তুলেছেন কিন্তু ছবি তোলার কতদিন পর এনআইডি কার্ড পাওয়া যায় জানেন না? এই পোস্টে থাকছে বিস্তারিত।
নতুন ভোটার নিবন্ধন করার কিছুদিন পর ছবি তোলা এবং বায়োমেট্রিক তথ্য দেয়ার জন্য ডাকা হয়ে থাকে। বায়োমেট্রিক তথ্য দেয়ার প্রায় এক মাস থেকে তিন মাস সময় লাগে এনআইডি কার্ড অনলাইনে আসতে।
আপনি যদি ছবি তুলে থাকেন এবং বায়োমেট্রিক তথ্য দিয়ে থাকেন তাহলে এই পোস্টটি শেষ অব্দি পড়লে আপনার এনআইডি কার্ড কবে পাবেন, সেটি বিস্তারিত জানতে পারবেন।
ছবি তোলার কতদিন পর এনআইডি কার্ড পাওয়া যায়
নতুন ভোটার নিবন্ধন করার পর ছবি তোলার জন্য ডাকা হয়। ছবি তোলা এবং বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করার এক মাস থেকে তিন মাসের মাঝে এনআইডি কার্ড তৈরি হয়ে যায়। এই সময়ের মাঝে এনআইডি কার্ড তৈরি হলে নিবন্ধন করার সময় দেয়া নাম্বারে এসএমএস এর মাধ্যমে এনআইডি কার্ডের নাম্বার জানিয়ে দেয়া হয়।
যারা এসএমএস এর মাধ্যমে এনআইডি কার্ডের নাম্বার পেয়েছেন, তারা উক্ত নাম্বার এবং জন্ম তারিখ দিয়ে অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন অনেক সহজেই।
এছাড়া, যারা এসএমএস পাননি বা এসএমএস আসলেও সেটি দেখতে পারেননি, তারা ভোটার স্লিপ নাম্বার এবং জন্ম তারিখ দিয়ে ভোটার আইডি কার্ড চেক করে দেখতে পারেন আপনার আইডি কার্ড তৈরি হয়েছে কিনা। তৈরি হলে এনআইডি একাউন্ট রেজিস্টার করার পর আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন।
ছবি তোলার কতদিন পর অনলাইন কপি পাওয়া যায়
ভোটার নিবন্ধন করার পর ছবি তুলেছেন কিন্তু এখনো এনআইডি কার্ড হাতে পাননি? তাহলে ভোটার নিবন্ধন করার সময় ব্যবহৃত নাম্বারের ম্যাসেজ চেক করে দেখুন এনআইডি নাম্বার সহ ম্যাসেজ এসেছে কিনা। কারণ, আপনার এনআইডি কার্ড তৈরি হয়ে থাকলে এসএমএস এর মাধ্যমে আইডি কার্ডের নাম্বার জানিয়ে দেয়া হবে।
তবে, আপনি যদি এসএমএস না পেয়ে থাকেন, তাহলে ভোটার স্লিপের নাম্বার এবং জন্ম তারিখ দিয়ে আইডি কার্ড চেক করে দেখতে পারবেন। কিন্তু, আপনি যদি ভোটার স্লিপ হারিয়ে ফেলেন, সেক্ষেত্রে ভোটার স্লিপ হারিয়ে গেলে করণীয় কি পোস্টটি পড়তে পারেন।
তবে, আপনি ভোটার নিবন্ধনের জন্য কতদিন আগে ছবি তুলেছেন সেটি যাচাই করতে হবে। আপনার ছবি তোলার যদি এক মাস না হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে অপেক্ষা করে দেখতে হবে। কারণ, অনেকসময় এনআইডি কার্ড অনলাইনে আসতে এক মাস থেকে তিন মাস অব্দি সময় লেগে যায়।
তাই, আপনার ছবি তোলার যদি বেশিদিন না হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে অপেক্ষা করতে হবে। অপেক্ষা করলে এসএমএস পাবেন। অথবা এসএমএস না পেলে ফরম নাম্বার দিয়ে NID Card Download করতে পারবেন।
এসএমএস এর মাধ্যমে ভোটার আইডি কার্ড চেক
আপনি যদি এসএমএস এর মাধ্যমে এনআইডি কার্ডের নাম্বার না পেয়ে থাকেন, তাহলে নিম্নোক্ত ফরম্যাট অনুসরণ করে একটি এসএমএস করলে ফিরতি ম্যাসেজে আপনার এনআইডি কার্ড তৈরি হয়ে থাকলে, এনআইডি কার্ডের নাম্বার জানিয়ে দেয়া হবে।
NID 1234567899 02-05-2001 এভাবে লিখে সেন্ড করুন 105 নাম্বারে। ফিরতি ম্যাসেজে আপনার এনআইডি কার্ডের নাম্বার জানিয়ে দেয়া হবে।
অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড হয়েছে কিনা চেক
ভোটার আইডি কার্ড হয়েছে কিনা অনলাইনে চেক করার জন্য services.nidw.gov.bd ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। এরপর, রেজিস্টার করুন বাটনে ক্লিক করুন। প্রথম ঘরে NIDFN লিখে স্পেস না দিয়ে ভোটার স্লিপ নাম্বার লিখুন। জন্ম তারিখ লিখুন এবং ক্যাপচা পুরণ করে সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন।
যদি পপআপ আসে, তাহলে বুঝতে হবে আপনার এনআইডি কার্ড তৈরি হয়েছে। বহাল বাটনে ক্লিক করে পরবর্তী ধাপগুলো পূরণ করলে আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন।
সারকথা
ছবি তোলার কতদিন পর এনআইডি কার্ড পাওয়া যায় এই বিষয়ে এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। যারা এনআইডি কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন এবং ছবি তুলেছেন, কিন্তু এখনো আইডি কার্ড হাতে পাননি, তারা পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়লে আপনার কার্ডটি কবে পাবেন সেটি জানতে পারবেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। এই দিনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে একটি ঐতিহাসিক গণভোট। সাধারণ মানুষের মনে এখন বড় প্রশ্ন হলো হ্যাঁ না ভোট কি এবং কেন এই ভোটের আয়োজন করা হয়েছে? সহজ কথায়, গণভোট হলো রাষ্ট্রের কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরাসরি জনগণের মতামত গ্রহণ করা। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ‘জুলাই সনদ’ নামে একটি সংস্কার প্রস্তাবনা তৈরি করেছে, যেখানে সংবিধানের ব্যাপক পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। ভোটাররা ব্যালটে দেওয়া নির্দিষ্ট প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিয়ে জানাবেন যে তারা এই সংস্কারগুলোর পক্ষে নাকি বিপক্ষে।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এই গণভোটকে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার সোপান হিসেবে অভিহিত করেছে। যদি এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়, তবে বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামো থেকে শুরু করে শাসনব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। আর যদি ‘না’ জয়ী হয়, তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকবে না। এই আর্টিকেলে আমরা হ্যাঁ না ভোট কি তার গভীর বিশ্লেষণসহ সংবিধানে সম্ভাব্য সকল পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করব।
জুলাই সনদ এবং গণভোটের প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর দেশ সংস্কারের যে দাবি উঠেছিল, তাকে একটি আইনি ও সাংবিধানিক রূপ দিতেই এই ‘জুলাই সনদ’ তৈরি করা হয়েছে। সংস্কার কমিশন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছে। এর মধ্যে ৪৭টি প্রস্তাব সরাসরি সংবিধান সংশোধনের সাথে যুক্ত এবং বাকি ৩৭টি সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য। যেহেতু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ছিল, তাই সরকার সরাসরি জনগণের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হ্যাঁ না ভোট কি তা বুঝতে হলে এই ৮৪টি প্রস্তাবের গুরুত্ব বোঝা জরুরি।
ভাষা, জাতি ও পরিচয়গত পরিবর্তন
বিদ্যমান সংবিধানে জাতীয় পরিচয় এবং ভাষার ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জুলাই সনদ অনুযায়ী এই জায়গাগুলোতে বড় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে:
রাষ্ট্রভাষা ও মাতৃভাষা: বর্তমান সংবিধানে কেবল বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা বলা হলেও অন্য ভাষার স্বীকৃতি নেই। নতুন প্রস্তাবে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা রেখে অন্য সব ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষাকেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
জাতীয় পরিচয়: বাংলাদেশের নাগরিকরা এতদিন ‘বাঙালি জাতি’ হিসেবে পরিচিত হলেও সংস্কারের পর তাদের পরিচয় হবে ‘বাংলাদেশি’। এটি একটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিতর্কের অবসান ঘটাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মূলনীতি: বর্তমান সংবিধানের মূলনীতি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ। তবে প্রস্তাবিত পরিবর্তনের পর মূলনীতি হবে— সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সম্প্রীতি।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য
বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে একক ক্ষমতা থাকার বিষয়টি নিয়ে সবসময়ই সমালোচনা হয়েছে। হ্যাঁ না ভোট কি তা বোঝার ক্ষেত্রে ক্ষমতার এই ভারসাম্য পরিবর্তন অন্যতম প্রধান পয়েন্ট।
১. প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতা: বর্তমানে একজন ব্যক্তি কতবার প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন তার কোনো সীমা নেই। জুলাই সনদে বলা হয়েছে, এক ব্যক্তি তার জীবনে ১০ বছরের বেশি বা দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।
২. রাষ্ট্রপতির নিয়োগ ক্ষমতা: বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতি প্রায় প্রতিটি কাজে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিতে বাধ্য থাকেন। নতুন নিয়মে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন এবং আইন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রধানদের নিয়োগ দিতে পারবেন।
৩. জরুরি অবস্থা জারি: আগে কেবল প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরে জরুরি অবস্থা জারি করা যেত। নতুন নিয়মে মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং বিরোধী দলীয় নেতার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সংসদ ও নির্বাচন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে বাংলাদেশের সংসদীয় কাঠামোতে অভাবনীয় পরিবর্তন আসবে। এতদিন বাংলাদেশ এক কক্ষ বিশিষ্ট সংসদের দেশ হলেও এখন দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ প্রবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ: সংসদে একটি উচ্চকক্ষ থাকবে যার সদস্য সংখ্যা হবে ১০০। রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে যে অনুপাতে ভোট পাবে, সেই আনুপাতিক হারেই উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন করা হবে।
নারীদের সংরক্ষিত আসন: বর্তমানে সংসদে নারীদের ৫০টি সংরক্ষিত আসন থাকলেও তা ১০০-তে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এমপিদের স্বাধীন ভোটদান: বর্তমান ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এমপিরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে পদ হারান। নতুন প্রস্তাবে বাজেট ও আস্থা বিল ছাড়া অন্য সব বিষয়ে এমপিদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার: সংবিধানে স্থায়ীভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে প্রতিটি নির্বাচন একটি নিরপেক্ষ কাঠামোর অধীনে হয়।
বিচার বিভাগ ও আইন ব্যবস্থা সংস্কার
বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে বেশ কিছু কঠোর পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১. বিচারক নিয়োগ কমিশন: হাইকোর্টের বিচারক নিয়োগ আগে প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এখন তা প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন একটি স্বাধীন কমিশনের হাতে ন্যস্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
২. ন্যায়পাল নিয়োগ: সংবিধানে থাকলেও দীর্ঘকাল যাবৎ ন্যায়পাল নিয়োগ হয়নি। এবার স্পিকারের সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে ন্যায়পাল নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
৩. সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল: উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণ বা তদারকির জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে।
বর্তমান বনাম প্রস্তাবিত সংবিধান: একনজরে পার্থক্য
বিষয়
বর্তমান সংবিধান
প্রস্তাবিত জুলাই সনদ (হ্যাঁ জয়ী হলে)
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ
নির্দিষ্ট নয়
সর্বোচ্চ ১০ বছর (২ মেয়াদ)
সংসদীয় কাঠামো
এক কক্ষ বিশিষ্ট
দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট (উচ্চকক্ষ ১০০ আসন)
জাতীয় পরিচয়
বাঙালি
বাংলাদেশি
নির্বাচনকালীন সরকার
দলীয় সরকার
নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার
মৌলিক অধিকার
২২টি
ইন্টারনেট ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা যুক্ত হবে
স্পিকার/ডেপুটি স্পিকার
উভয়ই সরকারি দল থেকে
ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে
গণভোটের চারটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন
ভোটাররা ব্যালট পেপারে বড় ৮৪টি প্রস্তাব পাবেন না। সেখানে মাত্র চারটি পয়েন্ট থাকবে যার ওপর ভিত্তি করে তাদের রায় দিতে হবে। মূলত এই চারটি পয়েন্টের মাধ্যমে পুরো জুলাই সনদকে সমর্থন জানানো হবে। এই সংক্ষিপ্ত পয়েন্টগুলোর কারণেই সাধারণ মানুষের জানা দরকার হ্যাঁ না ভোট কি এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব কী।
আইন ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কার (৩৭টি বিষয়)
সংবিধানের ৪৭টি সংস্কারের পাশাপাশি আরও ৩৭টি বিষয় আইন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
কুমিল্লা ও ফরিদপুর নামে নতুন দুটি প্রশাসনিক বিভাগ গঠন।
একটি স্বাধীন ও স্থায়ী জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন।
u003cstrongu003e হ্যাঁ না ভোট কি এবং কেন এটি ১২ই ফেব্রুয়ারি হচ্ছে?u003c/strongu003e
এটি একটি গণভোট যেখানে ভোটাররা সংবিধানের আমূল সংস্কারের পক্ষে বা বিপক্ষে রায় দেবেন। নির্বাচনের দিনেই এটি আয়োজন করা হয়েছে যাতে খরচ এবং সময় সাশ্রয় হয় এবং সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।
u003cstrongu003e গণভোটে ‘না’ জয়ী হলে কী হবে?u003c/strongu003e
যদি ‘না’ জয়ী হয়, তবে সরকার প্রস্তাবিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে আইনত বাধ্য থাকবে না। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হবে এবং নতুন সংসদ তাদের সিদ্ধান্ত নেবে।
u003cstrongu003eএকজন ব্যক্তি কি তিনবার প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন?u003c/strongu003e
জুলাই সনদ কার্যকর হলে কোনো ব্যক্তি জীবনে দুইবারের বেশি বা ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।
u003cstrongu003eউচ্চকক্ষ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?u003c/strongu003e
এটি সংসদের দ্বিতীয় স্তর। যেখানে মূলত বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে আসবেন, যা সংসদের ভারসাম্য রক্ষা করবে।
শেষ কথা
পরিশেষে বলা যায়, ২০২৬ সালের এই গণভোট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে। হ্যাঁ না ভোট কি তা সঠিকভাবে জানা প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব। জুলাই সনদ যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে ১২ই ফেব্রুয়ারি জনগণের রায়ের ওপর। ভোটারদের রায় যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে আমরা একটি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ এবং ক্ষমতার ভারসাম্যপূর্ণ নতুন এক বাংলাদেশের সাক্ষী হতে যাচ্ছি।
NID ফরম নাম্বার ভুল দেখাচ্ছে? করণীয় কি জানেন না? বিস্তারিত সমাধান জানতে পারবেন এই পোস্টে।
এনআইডি কার্ড চেক করতে বা ডাউনলোড করতে গেলে একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। এনআইডি একাউন্ট রেজিস্টার করার সময় এনআইডি কার্ডের নাম্বার বা ফরম নাম্বার লিখতে হয়। যারা এনআইডি নাম্বার পাননি, তারা ফরম নাম্বার ব্যবহার করে আইডি কার্ড সংক্রান্ত সেবা নিতে পারবেন।
তবে, অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন করার সময় যদি ফরম নাম্বার ভুল দেখায়, সেক্ষেত্রে কিভাবে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে, জানতে হলে শেষ অব্দি পড়তে হবে।
NID ফরম নাম্বার ভুল দেখালে করণীয় কী
NID ফরম নাম্বার লেখার সময় শুরুতে NIDFN লিখতে হবে। যদি, শুধু ফরম নাম্বার লেখেন, সেক্ষেত্রে ফরম নাম্বার ভুল বা অপ্রত্যাশিত সমস্যার জন্য দুঃখিত সমস্যাটি দেখাবে। তাই, NIDFN লিখতে হবে।
এছাড়া, NIDFN লেখার পর কোনো ফাঁকা রাখা যাবেনা। NIDFN লিখে ফাঁকা রেখে ফরম নাম্বার লেখা হলে একই সমস্যা দেখা দিবে। তাই, NIDFN লিখে ফাঁকা না রেখেই ফরম নাম্বার লিখুন। উদাহরণ – NIDFN456733548
এভাবে ফরম নাম্বার লিখলে ফরম নাম্বার ভুল দিয়েছেন সমস্যাটি দেখাবেনা। তবে, ফরম নাম্বার ঠিক থাকলেও জন্ম তারিখ ভুল দিলে অনেক সময় এই সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। তাই, আপনার ভোটার নিবন্ধনের সময় যে জন্ম তারিখ দিয়েছিলেন, সেটি লিখতে হবে।
ভোটার স্লিপ নাম্বার ভুল দেখালে করণীয়
ভোটার স্লিপ নাম্বার ভুল দেখালে ভোটার স্লিপ নাম্বার লেখার আগে NIDFN লিখতে হবে। NIDFN লিখে কোনো ফাঁকা না রেখে ভোটার স্লিপ নাম্বার লিখতে হবে। উদাহরণ – NIDFN124556789 এভাবে লিখতে হবে। যদি ফাঁকা রাখেন, তাহলে ভোটার স্লিপ নাম্বার ভুল সমস্যাটি দেখা দিবে।
এছাড়া, জন্ম তারিখের ফরম্যাট এবং জন্ম তারিখ ঠিকভাবে লিখতে হবে। জন্ম তারিখ লেখার সময় দিন-মাস-বছর এই ফরম্যাটে লিখতে হবে। আপনার জন্ম তারিখ বা মাস যদি এক থেকে নয় এর মাঝে হয়, সেক্ষেত্রে শুরুতে ০ (শূন্য) লিখতে হবে। মনে করুন আপনার জন্ম তারিখ ২ মার্চ, ২০০২ । সেক্ষেত্রে, 02-03-2002 এভাবে জন্ম তারিখ লিখতে হবে।
ভোটার স্লিপ নাম্বার লেখার শুরুতে NIDFN লিখতে হবে। মাঝে কোনো ফাঁকা রাখা যাবেনা। জন্ম তারিখ সঠিক ফরম্যাটে লিখতে হবে। জন্ম তারিখ সঠিক লিখতে হবে এবং ক্যাপচা কোডটি সঠিকভাবে লিখতে হবে। তাহলে ভোটার স্লিপ নাম্বার ভুল সমস্যাটি দেখাবেনা।
সারকথা
এনআইডি ফরম নাম্বার ভুল দেখালে করণীয় কী এবং কিভাবে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এই পোস্টে। যারা ফরম নাম্বার বা জন্ম তারিখ ভুল এই সমস্যায় পড়েছেন, তারা পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়লে সমস্যাটি সমাধান করতে পারবেন।
নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করতে হলে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাগজপত্র লাগে। নতুন ভোটার আবেদন করতে কি কি লাগে বিস্তারিত জানতে পারবেন এখানে।
নির্বাচন কমিশন থেকে ভোটার নিবন্ধন নেয়া শুরু হলে বা অনলাইনে ভোটার নিবন্ধন করতে গেলে বেশ কিছু কাগজপত্র প্রয়োজন হয়। গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রগুলো ছাড়া ভোটার আবেদন করতে পারবেন না। এছাড়া, কোনো কাগজপত্র মিসিং থাকলে আপনার আবেদনটি অনুমোদন করা হবেনা।
তাই, নতুন ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করার পূর্বে কি কি কাগজপত্র লাগবে তা জেনে নেয়া আবশ্যক। চলুন, বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।
নতুন ভোটার হতে কি কি লাগে
নতুন ভোটার নিবন্ধন করার সময় জন্ম নিবন্ধন সনদ, পিতা-মাতার ভোটার আইডি কার্ড, নাগরিক সনদপত্র, রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার রিপোর্ট, ইউটিলিটি বিলের কপি, পরীক্ষার সনদপত্র এবং বাসা-বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স রশিদ সহ বেশ কিছু ডকুমেন্ট লেগে থাকে।
নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করতে গেলে যেসব ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয় সেগুলোর একটি বিস্তারিত তালিকা নিচে উল্লেখ করে দেয়া হল —
জন্ম নিবন্ধন সনদ
হোল্ডিং ট্যাক্স রশিদ
ইউটিলিটি বিলের কপি
রক্তের গ্রুপ টেস্টের রিপোর্ট
পরীক্ষার সনদ পত্র
স্বামী/স্ত্রীর এনআইডির তথ্য
পিতা-মাতার এনআইডির তথ্য
নাগরিক সনদপত্র
ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করার সময় এসব ডকুমেন্ট সাথে রাখতে হবে। যদি সরাসরি আবেদন করেন, তাহলে ডকুমেন্টগুলো ফটোকপি করে নিতে হবে। তবে, অনলাইনে আবেদন করলে ডকুমেন্টগুলো স্ক্যান করে কপিগুলো আপলোড করতে হবে।
নতুন ভোটার হতে কত টাকা লাগে
নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করতে কোনো টাকা লাগেনা। তবে, গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টগুলো সাবমিট করার সময় ফটোকপি করতে কিংবা স্ক্যান করতে টাকা লাগবে। এছাড়া, আপনার কাছে যদি কোনো ডকুমেন্ট মিসিং থাকে, তাহলে সেগুলো সংগ্রহ করতে আলাদা করে টাকা প্রয়োজন হবে।
নতুন ভোটার হতে কতদিন সময় লাগে
ভোটার হওয়ার জন্য নিবন্ধন করার পর প্রায় এক মাস বা তার কিছু কম সময় লেগে থাকে ছবি তোলার জন্য ডাকতে। অর্থাৎ, ভোটার হওয়ার জন্য সরাসরি আবেদন করলে কিংবা অনলাইনে আবেদন করলে আবেদনটি যাচাই করার পর ছবি তোলা এবং বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করার জন্য ডাকা হয়।
ছবি তোলা এবং বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করার প্রায় এক মাস থেকে তিন মাস সময়ের মাঝে এনআইডি কার্ড তৈরি হয়ে যায়। এনআইডি কার্ড তৈরি হলে নিবন্ধনের সময় দেয়া নাম্বারে এসএমএস করে এনআইডি কার্ডের নাম্বার জানিয়ে দেয়া হয়।
শেষ কথা
নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করতে কি কি লাগে, কত টাকা লাগে এবং কতদিন সময় লাগে এসব বিষয় শেয়ার করেছি এই পোস্টে। যারা এখনো ভোটার আবেদন করেননি, কিন্তু ভোটার আইডি কার্ড করার জন্য বয়স হয়েছে, তারা ভোটার আবেদন করতে পারবেন এখন।
নির্বাচন কমিশন থেকে ভোটার আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। তাই, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসহ ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করুন।
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে চাচ্ছেন? কিন্তু সংশোধন আবেদন করার পর কতদিন সময় লাগে আবেদন অনুমোদন হতে জানেন না? এই পোস্টে থাকছে বিস্তারিত তথ্য।
ভোটার আইডি কার্ডে থাকা ভুল তথ্য সংশোধন করার প্রয়োজন পড়ে অনেক সময়। তথ্য ভুল থাকলে চাকরি বা পরীক্ষা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। তাই, ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য সংশোধন করতে সংশোধন আবেদন করতে হয়। আবেদন করার সময় ক্যাটাগরিভেদে সময় লেগে থাকে।
তো চলুন, ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন আবেদন করার পর আবেদন অনুমোদন হতে কতদিন সময় লাগে এই বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কতদিন লাগে
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন আবেদন করার পর আবেদনের ভিত্তিতে আবেদনটিকে ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। “ক ক্যাটাগরির” সংশোধন আবেদন অনুমোদন হতে ৭ দিন সময় লাগে। “খ ক্যাটাগরির” আবেদন অনুমোদন হতে ১৫ দিন সময় লাগে। “গ ক্যাটাগরির” আবেদন অনুমোদন হতে ৩০ দিন সময় লাগে এবং “ঘ” ক্যাটাগরির আবেদন অনুমোদন হতে ৪৫ দিন সময় লাগে।
অর্থাৎ, ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন আবেদন করার পর কি ধরনের তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করা হচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে আবেদনগুলোকে ক্যাটাগরিভেদে ভাগ করা হয়। এরপর, সংশ্লিষ্ট অফিসারের নিকট আবেদনটি প্রেরণ করা হয়।
উক্ত অফিসার আবেদনে থাকা সকল তথ্য যাচাই-বাছাই করার পর আবেদন অনুমোদন দেয়। এই প্রসেস সম্পন্ন হতে ক্যাটাগরিভেদে সময় লাগে।
সংশোধনের ক্যাটাগরি
কতদিন সময় লাগে
ক ক্যাটাগরি
৭ দিন
খ ক্যাটাগরি
১৫ দিন
গ ক্যাটাগরি
৩০ দিন
ঘ ক্যাটাগরি
৪৫ দিন
ক্যাটাগরিভেদে সময় ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে, উল্লিখিত সময়ের পূর্বে অনেক সময় আবেদন অনুমোদন হয়ে থাকে। এজন্য, সংশোধন আবেদন করার সময় সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে।
“ক” ক্যাটাগরির আবেদন
“ক” ক্যাটাগরির আবেদন অনুমোদন হতে সাধারণত ৭ দিন সময় লেগে থাকে। এই ক্যাটাগরিতে খুব সামান্য ভুল তথ্য সংশোধন করতে হয়। তাই, আবেদনটি যাচাই-বাছাই করার জন্য বেশি সময় প্রয়োজন হয়না। এজন্য, আবেদনগুলো দ্রুত অনুমোদন পায়।
ভোটার আইডি কার্ডের যেসব তথ্য সংশোধনের আবেদনের ক্ষেত্রে “ক” ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয় সেগুলো হচ্ছে —
জন্ম তারিখ সংশোধন (সর্বোচ্চ ৩ বছর)
মোবাইল নাম্বার পরিবর্তন
নামের বানান সংশোধন
রক্তের গ্রুপ সংশোধন
লিঙ্গ পরিবর্তন
নামের আংশিক পরিবর্তন
বৈবাহিক অবস্থা সংশোধন
বাংলা ও ইংরেজি নাম মিলকরণ
ঠিকানা সংশোধন
“খ” ক্যাটাগরির আবেদন
“খ” ক্যাটাগরির আবেদন অনুমোদন হতে সাধারণত ১৫ দিন সময় লেগে থাকে। তবে, সঠিক ডকুমেন্ট সাবমিট করা হলে এই আবেদন আরও দ্রুত অনুমোদন পেয়ে থাকে। যেসব তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করলে “খ” ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়, সেগুলো হচ্ছে —
জন্ম তারিখ সংশোধন
ছবি, স্বাক্ষর, আঙ্গুলের ছাপ, আইরিশ আপডেট
স্বামী বা স্ত্রীর নাম সংযোজন/বিয়োজন
ধর্ম পরিবর্তন
অসমর্থতা/প্রতিবন্ধীতা
“গ” ক্যাটাগরির আবেদন
“গ” ক্যাটাগরির আবেদনের ক্ষেত্রে ৩০ দিন সময় লেগে থাকে আবেদন অনুমোদন হতে। এই ক্যাটাগরিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধন করা হয়। এজন্য, যাচাই-বাছাই করতে সময় লাগে বেশি।
যেসব তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করলে “গ” ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয় সেগুলো নিম্নরূপ –
সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তন (বোর্ড পরীক্ষার সনদপত্রের ভিত্তিতে)
জন্ম তারিখ সংশোধন – ৫ বছরের বেশি (সরকারি অনুদানের ক্ষেত্র ব্যতীত।)
“ঘ” ক্যাটাগরির আবেদন
“ঘ” ক্যাটাগরির সংশোধন আবেদন অনুমোদন হতে সাধারণত ৪৫ দিন সময় লেগে থাকে। তবে, সংশোধন আবেদন করার সময় যথাযথ ডকুমেন্ট সাবমিট করা হলে তা আরও দ্রুত অনুমোদন হয়ে থাকে। যেসব তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করলে “ঘ” ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয় সেগুলো হচ্ছে —
জন্ম তারিখ সংশোধন — (বিভিন্ন সরকারি অনুদানের ক্ষেত্রে)
সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তন (বোর্ড পরীক্ষার সনদপত্র ছাড়া অন্য কাগজপত্রের ভিত্তিতে)
শেষ কথা
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কতদিন সময় লাগে তা বিস্তারিত আলোচনা করেছি এই পোস্টে। যারা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে চাচ্ছেন বা সংশোধনের জন্য আবেদন করেছেন কিন্তু কবে আবেদন অনুমোদন হবে জানেন না, তারা পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়লে জানতে পারবেন।
ভোটার আইডি কার্ডের ভুল তথ্য সংশোধন করতে চাচ্ছেন? কিন্তু এনআইডি কার্ড সংশোধনের আবেদন করতে কত টাকা লাগে জানেন না? বিস্তারিত থাকছে এই পোস্টে।
ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য ভুল হলে সংশোধন করার জন্য আবেদন করতে হয়। কিন্তু, ইউনিয়ন পরিষদ বা অন্য কোনো জায়গায় সংশোধন আবেদন করতে গেলে কিছু অসাধু মানুষ বেশি টাকা চেয়ে বসে। তাই, সংশোধন আবেদন করতে কত টাকা লাগে তা জানা আবশ্যক।
তো চলুন, ভোটার আইডি কার্ডের কোন তথ্য সংশোধন করতে কত টাকা লাগে তা বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কত টাকা লাগে
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার ক্ষেত্রে তিন ধরনের আবেদন করা যায়। ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধন করতে ২৩০ টাকা এবং অন্যান্য তথ্য সংশোধন করতে ১১৫ টাকা লাগে। তবে, ব্যক্তিগত এবং অন্যান্য তথ্য একইসাথে সংশোধনের আবেদন করতে ৩৪৫ টাকা লাগে।
অর্থাৎ, আপনি যদি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধন করার জন্য আবেদন করেন, সেক্ষেত্রে ২০০ টাকা ফি এবং ৩০ টাকা ভ্যাট সহ মোট ২৩০ টাকা ফি পরিশোধ করতে হবে। অন্যান্য তথ্য সংশোধন করতে ১০০ টাকা ফি এবং ১৫ টাকা ভ্যাট সহ মোট ১১৫ টাকা ফি পরিশোধ করতে হবে। অপরদিকে, ব্যক্তিগত তথ্য এবং অন্যান্য তথ্য একইসাথে সংশোধন করতে ভ্যাটসহ ৩৪৫ টাকা ফি পরিশোধ করতে হবে।
ভোটার আইডি কার্ডের ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধন
ভোটার আইডি কার্ডের ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধন করার জন্য ২৩০ টাকা ফি জমা দিতে হয়। বিকাশ, নগদ বা অন্য মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যমে আইডি কার্ড সংশোধন ফি জমা দিতে পারবেন। যেসব তথ্য সংশোধন করার জন্য ২৩০ টাকা ফি জমা দিতে হয় সেগুলো হচ্ছে –
নিজের নাম বা নামের ইংরেজি বানান
ভোটার আইডি কার্ডের ছবি সংশোধন
পিতা-মাতার নাম বা নামের ইংরেজি বানান
স্বাক্ষর সংশোধন
ঠিকানা সংশোধন
বিকাশ বা নগদ অ্যাপে ঢুকে পে বিল অপশনে গিয়ে NID Service সিলেক্ট করুন। এরপর, ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন সিলেক্ট করে আপনার এনআইডি নাম্বার লিখে ফি পরিশোধ করুন।
ভোটার আইডি কার্ডের অন্যান্য তথ্য সংশোধন
ব্যক্তিগত তথ্য ছাড়া অন্যান্য তথ্য সংশোধন করার জন্য ১১৫ টাকা ফি পরিশোধ করতে হয়। মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যমে এই ফি পরিশোধ করতে পারবেন। যেসব তথ্য সংশোধন করার জন্য ১১৫ টাকা ফি পরিশোধ করতে হয় সেগুলো নিম্নরূপ —
ব্যক্তির ধর্ম
শিক্ষাগত যোগ্যতা
স্বামী/স্ত্রীর নাম
পেশা
মোবাইল নাম্বার
ড্রাইভিং লাইসেন্স এর তথ্য
পাসপোর্ট নাম্বার
বিকাশ বা নগদ দিয়ে ফি পরিশোধ করার সময় অন্যান্য তথ্য সংশোধন অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে। এরপর, ১১৫ টাকা ফি পরিশোধ করতে হবে। ফি পরিশোধ করার পর সংশোধন আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। ফি পরিশোধ করার আগে সংশোধন আবেদন সম্পন্ন করা যাবেনা।
ব্যক্তিগত এবং অন্যান্য তথ্য সংশোধন
ভোটার আইডি কার্ডের ব্যক্তিগত তথ্য এবং অন্যান্য তথ্য যদি ভুল থাকে এবং একইসাথে সংশোধনের জন্য আবেদন করেন, তাহলে ৩৪৫ টাকা ফি পরিশোধ করতে হবে। সেক্ষেত্রে, পে বিল অপশন থেকে NID Service অপশনটি সিলেক্ট করে ব্যক্তিগত এবং অন্যান্য তথ্য সংশোধন সিলেক্ট করে ফি পরিশোধ করতে হবে।
আপনার ভোটার আইডি কার্ডের কোন তথ্য ভুল আছে এবং তা সংশোধন করতে চান তা আগে নির্ধারণ করুন। এরপর, উক্ত তথ্য সংশোধন করতে কত টাকা লাগবে তা যাচাই করুন পোস্টে উল্লেখ করে দেয়া পদ্ধতি অনুসরণ করে। এরপর, ফি পরিশোধ করুন এনআইডি নাম্বার দিয়ে। অতঃপর, সংশোধন আবেদন করুন যথাযথ কাগজপত্র দিয়ে।
শেষ কথা
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কত টাকা লাগে তা বিস্তারিত আলোচনা করেছি এই পোস্টে। যারা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে চাচ্ছেন, কিন্তু কত টাকা ফি লাগে জানেন না। তারা পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়লে সংশোধন ফি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
অনেক আগে ভোটার হওয়ার পরেও এখনো স্মার্ট কার্ড পাননি? স্মার্ট কার্ড কবে পাবেন এবং স্মার্ট কার্ড কিভাবে পাবেন এসব বিষয় বিস্তারিত আলোচনা করেছি এই পোস্টে।
বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য স্মার্ট এনআইডি কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উক্ত স্মার্ট কার্ডে ব্যক্তির সকল তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। নির্বাচন কমিশন থেকে এক কোটির বেশি মানুষকে ইতোমধ্যে স্মার্ট আইডি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। তবে, এখনো সকল ভোটার তাদের স্মার্ট আইডি কার্ড পাননি।
তাই, যারা ভোটার হওয়ার পরেও এখনো স্মার্ট কার্ড পাননি, তারা কিভাবে এবং কবে স্মার্ট কার্ড পাবেন বিস্তারিত জেনে নিতে পারবেন আজকের এই পোস্টে।
স্মার্ট কার্ড কবে পাবেন
নির্বাচন কমিশন থেকে যেসব ভোটার এখনো স্মার্ট কার্ড পায়নি, তাদের স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। আপনি যদি অনেক আগে ভোটার হওয়ার পরেও এখনো স্মার্ট আইডি কার্ড না পেয়ে থাকেন, তাহলে আপনার স্মার্ট কার্ড হয়েছে কিনা জানার জন্য স্মার্ট কার্ড স্ট্যাটাস চেক করুন।
স্মার্ট কার্ড চেক করার মাধ্যমে আপনার স্মার্ট কার্ডটি তৈরি হয়েছে কিনা জানতে পারবেন। এছাড়া, স্মার্ট কার্ড তৈরি হলে কার্ড বিতরণ কেন্দ্রের নাম, কবে বিতরণ করা হবে এসব তথ্য জানতে পারবেন।
যদি স্মার্ট কার্ড তৈরি না হয়ে থাকে, তাহলে সেটিও জানতে পারবেন। সেক্ষেত্রে, অপেক্ষা করতে হবে স্মার্ট কার্ড পাওয়ার জন্য।
স্মার্ট কার্ড হয়েছে কিনা চেক
স্মার্ট কার্ড হয়েছে কিনা চেক করার জন্য https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/card-status ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর / ফর্ম নম্বর লিখুন এবং জন্ম তারিখ লিখুন। ক্যাপচা কোডটি ফাঁকা ঘরে লিখে সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন।
এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনার স্মার্ট কার্ড স্ট্যাটাস জানতে পারবেন। এছাড়া, আপনি চাইলে এসএমএস এর মাধ্যমেও আপনার স্মার্ট আইডি কার্ডের স্ট্যাটাস যাচাই করতে পারবেন। এজন্য, নিম্নোক্ত ধাপগুলো অনুসরণ করুন।
এসএমএস এর মাধ্যমে স্মার্ট কার্ড চেক করতে মোবাইলের ম্যাসেজ অপশনে যান
SC NID xxxxxxxxxxxxx এই ফরম্যাটে একটি এসএমএস লিখুন এবং 105 নাম্বারে সেন্ড করুন
উদাহরণ – SC NID 46737487383 এবং সেন্ড করুন 105 নাম্বারে
ফিরতি ম্যাসেজে আপনার স্মার্ট কার্ড তৈরি হয়েছে কিনা জানিয়ে দেয়া হবে
এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে সহজেই আপনার Smart NID Card Status চেক করতে পারবেন।
স্মার্ট আইডি কার্ড পেতে করণীয়
স্মার্ট এনআইডি কার্ড পেতে চাইলে আগে আপনার স্মার্ট কার্ড হয়েছে কিনা চেক করে দেখতে হবে। উপরোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করে যদি দেখেন আপনার স্মার্ট আইডি কার্ড তৈরি হয়েছে, তাহলে ইউনিয়ন পরিষদ বা বিতরণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করে স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন।
তবে, যদি স্মার্ট কার্ড তৈরি না হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে, আপনাকে অপেক্ষা করে থাকতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদ এবং সিটি কর্পোরেশন ভিত্তিক স্মার্ট আইডি কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। আপনার এলাকায় Smart Card বিতরণ শুরু হলে সেখানে থেকে আপনার কার্ডটি সংগ্রহ করতে পারবেন।
নতুন ভোটাররা স্মার্ট কার্ড কবে পাবে
যারা নতুন ভোটার হয়েছেন কিন্তু এখনো স্মার্ট কার্ড পাননি, তাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে। কারণ, নতুন ভোটারদেরকে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা শুরু হয়নি। আপনারা ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করে সেটি প্রিন্ট এবং লেমিনেটিং করে ব্যবহার করতে পারবেন।
তবে, স্মার্ট কার্ড এখনই পাবেন না। এজন্য, অপেক্ষা করতে হবে। সবাইকে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা শুরু হলে তবেই সংগ্রহ করতে পারবেন।
শেষ কথা
স্মার্ট কার্ড কবে এবং কিভাবে পাবেন বিস্তারিত শেয়ার করেছি এখানে। যারা এখনো স্মার্ট আইডি কার্ড পাননি, তারা পোস্টটি পড়লে স্মার্ট এনআইডি কার্ডের সর্বশেষ আপডেট জানতে পারবেন।