খুলনা-বেনাপোল রুটে যাতায়াতের জন্য বেনাপোল টু খুলনা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ জানা থাকলে সময়, খরচ—দুই দিকেই সুবিধা হয়। এই রুটে নিয়মিত চলাচল করে Commuter Betna Express-1 (53) এবং Commuter Betna Express-3 (94)। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা বেনাপোল স্থলবন্দর এলাকার সঙ্গে খুলনা অঞ্চলের যোগাযোগে এই ট্রেনগুলো যাত্রীদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিচে ২০২৬ সালের নির্ধারিত সময়সূচি, ভাড়া, স্টপেজ, এবং অনলাইন টিকিটের নিয়ম সহজ ভাষায় দেওয়া হলো।
Table of Contents
খুলনা-বেনাপোল রুটের রেল সংযোগ
খুলনা থেকে বেনাপোল—এই রুটটি মূলত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ। যশোর হয়ে বেনাপোল পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করায় স্থানীয় যাত্রী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের নিয়মিত যাতায়াতে সুবিধা হয়। এই রুটে বর্তমানে যাত্রী পরিবহনে নির্ধারিত ট্রেন হিসেবে চলাচল করে—
- Commuter Betna Express-1 (53)
- Commuter Betna Express-3 (94)
এই রুট কার জন্য বেশি কাজে লাগে
| যাত্রী ধরন | কেন সুবিধা |
|---|---|
| চাকরিজীবী | সকাল-দুপুরে নির্ধারিত ট্রেন, যাতায়াত সহজ |
| শিক্ষার্থী | তুলনামূলক কম খরচে নিয়মিত যাওয়া-আসা |
| ব্যবসায়ী/ভ্রমণকারী | যশোর-বেনাপোল সংযোগে দ্রুত চলাচল |
বেনাপোল টু খুলনা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
নিচে খুলনা থেকে বেনাপোলগামী ট্রেনের সময় দেওয়া হলো:
খুলনা থেকে বেনাপোল ট্রেনের সময়সূচিঃ
| ট্রেনের নাম | ছাড়ার সময় (খুলনা) | পৌঁছানোর সময় (বেনাপোল) |
|---|---|---|
| Commuter Betna Express-1 (53) | সকাল ৬:১৫ মিনিট | সকাল ৮:৫৫ মিনিট |
| Commuter Betna Express-3 (94) | দুপুর ১২:৪০ মিনিট | দুপুর ২:৫০ মিনিট |
সময়সূচি মনে রাখার সহজ টিপসঃ
- সকালে যেতে চাইলে: Express-1 (53)
- দুপুরে যেতে চাইলে: Express-3 (94)
- স্টেশনে যাওয়ার আগে অন্তত ৩০–৪৫ মিনিট হাতে রাখুন।
ট্রেন ভাড়ার কাঠামো (২০২৬)
খুলনা-বেনাপোল রুটে শ্রেণিভেদে ভাড়া আলাদা হতে পারে। নিচের তালিকাটি ২০২৫ সালের নির্ধারিত ভাড়ার কাঠামো হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
শ্রেণিভিত্তিক ভাড়া:
| শ্রেণী | নির্ধারিত ভাড়া (টাকা) |
|---|---|
| শোভন | ১০০ |
| শোভন চেয়ার | ১২০ |
| প্রথম শ্রেণী | ১৬০ |
| এসি চেয়ার | ২০০ |
| এসি কেবিন | ৩০০ |
ভাড়া নিয়ে দরকারি কথা
- ভাড়া সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হতে পারে, তাই কাউন্টার বা অনলাইন টিকিটিংয়ে দেখানো ভাড়াই চূড়ান্ত ধরুন।
- ছুটি/ভিড়ের সময়ে আসন দ্রুত শেষ হতে পারে—আগে টিকিট নিলে ঝামেলা কমে।
স্টপেজ ও স্টেশনগুলো
এই রুটে যাত্রাবিরতি (স্টপেজ) থাকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে। সাধারণত নিচের স্টেশনগুলোতে যাত্রী উঠানামা করে।
খুলনা–বেনাপোল রুটের স্টপেজ তালিকা
- বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন
- নাভারন রেলওয়ে স্টেশন
- ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশন
- যশোর জংশন রেলওয়ে স্টেশন
- রূপদিয়া রেলওয়ে স্টেশন
- সিঙ্গিয়া রেলওয়ে স্টেশন
- চেঙ্গুটিয়া রেলওয়ে স্টেশন
- নওয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশন
- বেজেরডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন
- ফুলতলা রেলওয়ে স্টেশন
- দৌলতপুর রেলওয়ে স্টেশন
- দৌলতপুর কলেজ রেলওয়ে স্টেশন
- খুলনা জংশন রেলওয়ে স্টেশন
কোন স্টেশনে বেশি ভিড় হয়
| স্টেশন | কারণ |
|---|---|
| যশোর জংশন | প্রধান জংশন, সংযোগ বেশি |
| নাভারন | স্থানীয় যাত্রী বেশি |
| খুলনা জংশন | রুটের বড় স্টেশন |
রেলভ্রমণের তুলনামূলক সুবিধা
সড়কপথের তুলনায় ট্রেনে যাত্রার কিছু বাস্তব সুবিধা আছে—বিশেষ করে নির্দিষ্ট সময় ও খরচের দিক থেকে।
প্রধান সুবিধাগুলো
- আরামদায়ক যাত্রা: ট্রেনের বসার জায়গা তুলনামূলক প্রশস্ত, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলেও কষ্ট কম।
- সাশ্রয়ী খরচ: অনেক ক্ষেত্রে বাসের তুলনায় ভাড়া কম পড়ে।
- সময় মেনে চলা: নির্ধারিত বেনাপোল টু খুলনা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ অনুযায়ী চললে পরিকল্পনা করা সহজ হয়।
ট্রেন বনাম বাস: দ্রুত তুলনা
| বিষয় | ট্রেন | বাস |
|---|---|---|
| ভাড়া | সাধারণত কম/মাঝারি | মাঝারি/কখনও বেশি |
| আরাম | তুলনামূলক বেশি | যানজট/চাপ থাকতে পারে |
| সময় | নির্ধারিত সূচি | ট্রাফিকের ওপর নির্ভর |
ট্রেনে যাত্রার পূর্বপ্রস্তুতি
যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আগে থেকে কয়েকটা কাজ করলে অনেক সুবিধা হয়।
যাত্রার আগে যা করবেন
- আগাম টিকিট সংরক্ষণ: বিশেষ করে শুক্র-শনিবার বা ছুটির দিনে।
- পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন: জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্ট (যদি লাগে)।
- মূল্যবান জিনিস সতর্কতা: মোবাইল, মানিব্যাগ, কাগজপত্র নিজের কাছে রাখুন।
স্টেশনে গেলে যেসব বিষয় মাথায় রাখবেন
- প্ল্যাটফর্ম নম্বর দেখুন
- ট্রেনের নাম ও নম্বর মিলিয়ে নিন
- ভিড় হলে ব্যাগ সামনে রাখুন
অনলাইন টিকিট সংরক্ষণের ধাপসমূহ
অনলাইনে টিকিট কাটলে লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা কমে। সাধারণভাবে ধাপগুলো এমন—
অনলাইন টিকিট কাটার ধাপ
- eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইটে যান
- অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করুন বা লগইন করুন
- From–To (খুলনা–বেনাপোল) এবং তারিখ নির্বাচন করুন
- পছন্দের ট্রেন ও শ্রেণী (Class) বেছে নিন
- bKash / Rocket / Nagad সহ অনলাইন পেমেন্ট সম্পন্ন করুন
- টিকিট ডাউনলোড করুন (প্রয়োজনে প্রিন্ট রাখুন)
অনলাইনে টিকিট কাটার সময় সাধারণ ভুল
| ভুল | কীভাবে এড়াবেন |
|---|---|
| ভুল তারিখ নির্বাচন | পেমেন্টের আগে আবার মিলিয়ে নিন |
| নাম/আইডি ভুল | প্রোফাইল তথ্য ঠিক আছে কি না দেখুন |
| পেমেন্ট ব্যর্থ | নেট ঠিক রেখে আবার চেষ্টা করুন |
প্রশ্ন-উত্তর (FAQ)
খুলনা থেকে বেনাপোল যেতে কোন কোন ট্রেন আছে?
এই রুটে নিয়মিত দুইটি ট্রেন চলে: Commuter Betna Express-1 (53) এবং Commuter Betna Express-3 (94)।
২০২৬ সালে খুলনা-বেনাপোল ট্রেন কখন ছাড়ে?
সকাল ৬:১৫ মিনিটে Express-1 (53) এবং দুপুর ১২:৪০ মিনিটে Express-3 (94) ছাড়ে—এটাই Khulna Benapole train schedule 2025 অনুযায়ী নির্ধারিত সময়।
ট্রেন ভাড়া কত?
শ্রেণিভেদে ভাড়া আলাদা: শোভন ১০০ টাকা থেকে শুরু করে এসি কেবিন ৩০০ টাকা পর্যন্ত।
পথে কোন কোন বড় স্টপেজ আছে?
বড় স্টপেজ হিসেবে যশোর জংশন, নাভারন, নওয়াপাড়া, ফুলতলা, দৌলতপুর উল্লেখযোগ্য।
অনলাইনে টিকিট কাটা যাবে?
হ্যাঁ, eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে টিকিট কাটা যায়।
শেষ কথা
খুলনা-বেনাপোল রুট দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীদের জন্য খুবই দরকারি।বেনাপোল টু খুলনা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ মেনে চললে সময় বাঁচে, খরচও নিয়ন্ত্রণে থাকে। যাত্রার আগে টিকিট, পরিচয়পত্র, এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ঠিক রাখলে ট্রেনে ভ্রমণ হয় নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত।