চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, টিকেট ও ভাড়ার তালিকা সম্পর্কে সঠিক ও আপডেট তথ্য জানা থাকলে ঢাকা–খুলনা রুটে ভ্রমণ অনেক সহজ ও পরিকল্পিত হয়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য এই ট্রেনটি একটি নির্ভরযোগ্য আন্তঃনগর ট্রেন হিসেবে পরিচিত। যারা নিয়মিত অফিসের কাজে, ব্যবসার প্রয়োজনে কিংবা পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করেন, তাদের কাছে চিত্রা এক্সপ্রেস একটি জনপ্রিয় নাম। কম খরচে, তুলনামূলক কম সময়ে এবং আরামদায়ক যাত্রার সুবিধা থাকায় প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী এই ট্রেন বেছে নেন। এই লেখায় চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, যাত্রাপথের বিরতিস্থান, টিকেটের দাম ও ভাড়ার তালিকা সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যাতে ভ্রমণের আগে আপনাকে আর অন্য কোথাও তথ্য খুঁজতে না হয়।
চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা
চিত্রা এক্সপ্রেস একটি আন্তঃনগর ট্রেন, যা ঢাকা থেকে খুলনা এবং খুলনা থেকে ঢাকা রুটে নিয়মিত চলাচল করে। এই ট্রেনটি বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে পরিচালিত হয় এবং যাত্রীসেবার মান তুলনামূলক ভালো হওয়ায় এটি বেশ জনপ্রিয়। ট্রেনটিতে শোভন চেয়ার থেকে শুরু করে এসি বার্থ পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণির আসন রয়েছে, ফলে যাত্রীরা নিজের বাজেট ও আরামের চাহিদা অনুযায়ী টিকেট নিতে পারেন।
চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী
চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন সপ্তাহের ছয় দিন চলাচল করে এবং রবিবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটি থাকে। সময়মতো স্টেশন ত্যাগ ও গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য এই ট্রেনটি বেশ পরিচিত। নিচে চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী সহজভাবে দেওয়া হলো।
ঢাকা টু খুলনা সময়সূচী
| স্টেশন | সাপ্তাহিক ছুটি | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় |
|---|---|---|---|
| ঢাকা → খুলনা | রবিবার | ১৯:০০ | ০৩:৪০ |
খুলনা টু ঢাকা সময়সূচী
| স্টেশন | সাপ্তাহিক ছুটি | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় |
|---|---|---|---|
| খুলনা → ঢাকা | রবিবার | ০৯:০০ | ১৭:৫৫ |
এই সময়সূচী অনুযায়ী রাতে ঢাকা থেকে ছাড়লে ভোরের দিকে খুলনায় পৌঁছানো যায়, যা অনেক যাত্রীর জন্য সুবিধাজনক।
চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের বিরতিস্থান ও সময়সূচী
চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন যাত্রাপথে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে বিরতি দেয়। এই বিরতিগুলো যাত্রী ওঠানামা এবং নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ করে। নিচে খুলনা থেকে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে খুলনা উভয় দিকের বিরতিস্থান ও সম্ভাব্য সময় দেওয়া হলো।
বিরতিস্থান তালিকা
| বিরতি স্টেশন | খুলনা থেকে (৭৬৩) | ঢাকা থেকে (৭৬৪) |
|---|---|---|
| নওয়াপাড়া | ০৯:৩১ | ০২:৫২ |
| যশোর | ১০:০২ | ০২:২০ |
| মোবারকগঞ্জ | ১০:৪৭ | — |
| কোটচাঁদপুর | ১১:০০ | ০১:৪১ |
| দর্শনা | ১১:২৫ | — |
| চুয়াডাঙ্গা | ১১:৪৬ | ০০:৫৫ |
| আলমডাঙ্গা | ১২:০৭ | ০০:৩৫ |
| পোড়াদহ | ১২:২৪ | ০০:১৬ |
| মিরপুর | ১২:৩৭ | — |
| ভেড়ামারা | ১২:৪৯ | ২৩:৫৫ |
| ঈশ্বরদী | ১৩:১৫ | ২৩:১৫ |
| চাটমোহর | ১৩:৪৮ | ২২:৪৪ |
| বড়াল ব্রিজ | ১৪:০৯ | ২২:২৯ |
| উল্লাপাড়া | ১৪:৩০ | ২২:০৯ |
| শহীদ এম মনসুর আলী | ১৪:৪৯ | ২১:৫১ |
| বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব | ১৫:৪৫ | ২১:১৫ |
| বিমানবন্দর | ১৭:২২ | ১৯:২৭ |
এই বিরতিগুলোর কারণে মধ্যবর্তী জেলার যাত্রীরাও সহজে এই ট্রেন ব্যবহার করতে পারেন।
চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট ও ভাড়ার তালিকা
চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে বিভিন্ন শ্রেণির আসন রয়েছে। প্রতিটি আসনের ভাড়া ভিন্ন এবং ভাড়ার সাথে ১৫% ভ্যাট যুক্ত থাকে। যাত্রীরা নিজের প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী আসন নির্বাচন করতে পারেন।
ভাড়ার তালিকা
| আসন বিভাগ | টিকেটের মূল্য (১৫% ভ্যাটসহ) |
|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৫০৫ টাকা |
| প্রথম সিট | ৬৭০ টাকা |
| প্রথম বার্থ | ১০০৫ টাকা |
| স্নিগ্ধা | ৮৪০ টাকা |
| এসি সিট | ১০০৫ টাকা |
| এসি বার্থ | ১৫০৫ টাকা |
ভ্রমণ দীর্ঘ হলে অনেক যাত্রী বার্থ সুবিধা পছন্দ করেন, আবার স্বল্প বাজেটের যাত্রীরা শোভন চেয়ার বেছে নেন।
আপনার জন্যঃ বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী
চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে টিকেট কাটার নিয়ম
চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট আপনি অনলাইন এবং স্টেশন কাউন্টার—দুই জায়গা থেকেই সংগ্রহ করতে পারেন। অনলাইনে টিকেট কাটলে সময় বাঁচে এবং ভিড়ের ঝামেলা কম হয়। তবে ঈদের সময় বা বিশেষ ছুটিতে আগেভাগে টিকেট কাটা ভালো।
কেন চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে ভ্রমণ করবেন
চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে ভ্রমণের কিছু বিশেষ সুবিধা রয়েছে।
- নির্দিষ্ট সময়সূচী ও নিয়মিত চলাচল
- তুলনামূলক কম ভাড়া
- বিভিন্ন শ্রেণির আসনের সুবিধা
- নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রা
- ঢাকা–খুলনা রুটে দ্রুত পৌঁছানোর সুযোগ
এই কারণগুলোই চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনকে যাত্রীদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
ভ্রমণের আগে যেসব বিষয় মাথায় রাখবেন
ভ্রমণের আগে সময়সূচী একবার দেখে নেওয়া ভালো। ছুটির দিনে বা বিশেষ উপলক্ষে ট্রেনের চাপ বেশি থাকতে পারে। তাই টিকেট আগেই কেটে রাখা নিরাপদ। এছাড়া স্টেশনে অন্তত ৩০ মিনিট আগে পৌঁছালে যাত্রা আরও ঝামেলামুক্ত হয়।
প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন কি প্রতিদিন চলে?
না, চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন সপ্তাহে ছয় দিন চলে। রবিবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটি।
চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের সবচেয়ে সস্তা টিকেট কোনটি?
শোভন চেয়ার হলো সবচেয়ে সস্তা আসন, যার ভাড়া ৫০৫ টাকা (ভ্যাটসহ)।
রাতে ভ্রমণ করা কি নিরাপদ?
চিত্রা এক্সপ্রেস একটি আন্তঃনগর ট্রেন হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো থাকে। তাই রাতে ভ্রমণ সাধারণত নিরাপদ।
অনলাইনে টিকেট কাটা কি সুবিধাজনক?
হ্যাঁ, অনলাইনে টিকেট কাটলে সময় ও ঝামেলা দুটোই কম হয়।
শেষ কথা
চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, টিকেট ও ভাড়ার তালিকা জানা থাকলে ঢাকা–খুলনা রুটে ভ্রমণ অনেক সহজ হয়ে যায়। নিয়মিত সময়সূচী, সাশ্রয়ী ভাড়া এবং আরামদায়ক আসনের কারণে এই ট্রেনটি যাত্রীদের আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। আপনি যদি নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ এবং পরিকল্পিত ট্রেন ভ্রমণ চান, তাহলে চিত্রা এক্সপ্রেস নিঃসন্দেহে একটি ভালো পছন্দ হতে পারে। ভ্রমণের আগে প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নিয়ে যাত্রা শুরু করলে আপনার যাত্রা হবে আরও আনন্দময় ও ঝামেলাহীন।