কানাডা যাওয়ার যোগ্যতা থাকলে সরকারিভাবে কানাডা যাওয়ার উপায় জেনে দেশটিতে পাড়ি জমানো সম্ভব। আপনি কি কানাডা যেতে আগ্রহী? কানাডা যাওয়ার এজেন্সি ও যোগ্যতা নিয়ে বিস্তারিত এই আর্টিকেলটি লেখা হয়েছে। বর্তমান সময়ে উন্নত জীবন এবং ক্যারিয়ার গড়ার জন্য কানাডা বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। তবে সঠিক তথ্যের অভাবে অনেকেই প্রতারণার শিকার হন। তাই ২০২৬ সালে কানাডা ইমিগ্রেশন ও ভিসার সর্বশেষ নিয়মগুলো জানা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
Table of Contents
কানাডা যাওয়ার যোগ্যতা ২০২৬
অনেকে শুধু সরকারিভাবে কানাডা যাওয়ার উপায় জেনে থাকে কিন্তু কানাডা যাওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখে না। এজন্য স্বপ্নের দেশটিতে যেতে অনেকেই ব্যর্থ হন। কানাডা যাওয়ার উপায় জানার আগে অবশ্যই আপনার ব্যক্তিগত যোগ্যতা সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে। ২০২৬ সালে কানাডায় প্রবেশের ক্ষেত্রে নিয়মে কিছু পরিবর্তন এসেছে, বিশেষ করে আর্থিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে।
আরও জেনে নিনঃ কানাডা যাওয়ার খরচ কত
উন্নত এই দেশটির ভিসা আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করা বাধ্যতামূলক। নতুবা কানাডা ভিসার আবেদন করে সফল হওয়া সম্ভব নয়। কানাডা যাওয়ার যোগ্যতা ভিসা ক্যাটাগরি (যেমন: স্টুডেন্ট, ওয়ার্ক পারমিট বা ভিজিটর) অনুযায়ী কিছুটা আলাদা হয়ে থাকে। তবে মৌলিক কিছু বিষয় সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
কানাডা ভিসা আবেদন করার জন্য নিম্নে উল্লেখিত যোগ্যতাসমূহ আবেদনকারীদের মধ্যে থাকতে হবে:
- বৈধ পাসপোর্ট: কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ সম্পন্ন পাসপোর্ট থাকতে হবে।
- আবেদনকারীর ছবি: সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি (ম্যাট পেপার)।
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স: অপরাধমুক্ত থাকার সরকারি সনদ।
- মেডিকেল সার্টিফিকেট: অনুমোদিত প্যানেল ফিজিশিয়ান দ্বারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা।
- ফাইনান্সিয়াল সলভেন্সি: ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ। ২০২৬ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী স্টুডেন্ট ভিসার জন্য অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
- জন্ম নিবন্ধন/ভোটার আইডি: সঠিক নাম ও বয়স প্রমাণের জন্য।
- একাডেমিক সার্টিফিকেট: পূর্ববর্তী সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট।
- এলএমআইএ (LMIA): ওয়ার্ক পারমিট ভিসার ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার কাছ থেকে লেবার মার্কেট ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট নম্বর।
- জব অফার লেটার: কানাডিয়ান কোম্পানির পক্ষ থেকে চাকরির নিয়োগপত্র।
- হোটেল বুকিং ও ট্রাভেল রেকর্ড: মূলত টুরিস্ট ভিসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
- আইইএলটিএস (IELTS): ভাষা দক্ষতার প্রমাণ স্বরূপ ন্যূনতম স্কোর।
কানাডা যেতে কত IELTS পয়েন্ট লাগে ২০২৬
কানাডা যেতে স্টুডেন্ট ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদনকারীদের ন্যূনতম আইইএলটিএস স্কোর বা IELTS Score ৬.০ থাকতে হবে। তবে ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, আপনি যদি সরাসরি এসডিএস (SDS) ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে চান, তবে প্রতিটি ব্যান্ডে (লিসেনিং, রিডিং, রাইটিং এবং স্পিকিং) ন্যূনতম ৬.০ স্কোর থাকা নিরাপদ।
আরও জেনে নিনঃ কানাডা ভিসা আবেদন ফরম
সাধারণ ক্যাটাগরিতে প্রতিটি ব্যান্ডে ৫.৫ থাকলেও আবেদন করা যায়, তবে এতে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা কমে যেতে পারে। অন্যদিকে মাস্টার্স বা পোস্ট-গ্রাজুয়েশন প্রোগ্রামের জন্য সাধারণত ৬.৫ বা তার বেশি স্কোরের প্রয়োজন হয়। মনে রাখবেন, IELTS এর মেয়াদ থাকে ২ বছর, তাই মেয়াদ থাকাকালীন ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত।
কানাডা যেতে কত বয়স লাগে ২০২৬
কানাডা অভিবাসনের জন্য বয়সের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। যদিও কানাডায় যাওয়ার জন্য কঠোর কোনো বয়সসীমা নেই, তবে পয়েন্ট ভিত্তিক ইমিগ্রেশন সিস্টেমে বয়সের কারণে পয়েন্ট কমবেশি হয়।
- স্টুডেন্ট ভিসা: সাধারণত ১৮ থেকে ৩৫ বছরের শিক্ষার্থীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়। তবে স্টাডি গ্যাপ যৌক্তিক হলে বেশি বয়সেও আবেদন করা যায়।
- ওয়ার্ক পারমিট: ১৮ থেকে ৪৫ বছর পর্যন্ত আবেদন করা যায়। তবে ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে বয়স থাকলে চাকরির বাজারে ও পয়েন্ট সিস্টেমে সুবিধা বেশি পাওয়া যায়।
- বিজনেস ভিসা: ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থাকলে ২৫ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত আবেদনকারীরা সফল হন।
- ভিজিটর ভিসা: এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো বয়স নেই, তবে আর্থিক সক্ষমতা ও নিজ দেশে ফিরে আসার নিশ্চয়তা প্রধান্য পায়।
আরও জেনে নিনঃ কানাডা ওয়ার্ক পারমিট ভিসা
ভিসা ক্যাটাগরি অনুযায়ী বয়সের তুলনামূলক চিত্র
| ভিসার ধরণ | নূন্যতম বয়স | আদর্শ বয়স সীমা |
| স্টুডেন্ট ভিসা | ১৮ বছর | ১৮ – ২৫ বছর |
| ওয়ার্ক পারমিট | ১৮ বছর | ২০ – ৪০ বছর |
| এক্সপ্রেস এন্ট্রি | ১৮ বছর | ১৮ – ৩০ বছর (সর্বোচ্চ পয়েন্টের জন্য) |
| ভিজিটর ভিসা | কোনো সীমা নেই | ১৮+ (নিজের খরচে হলে) |
কানাডা যাওয়ার এজেন্সি ২০২৬
বাংলাদেশ থেকে কানাডা যাওয়ার অনেক এজেন্সি রয়েছে। তবে মনে রাখবেন, কোনো এজেন্সিই আপনাকে সরাসরি ভিসা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না; তারা শুধুমাত্র আপনার ফাইল প্রসেসিং এ সহায়তা করে। নিচে নির্ভরযোগ্য কিছু এজেন্সির তথ্য দেওয়া হলো:
কানাডা যাওয়ার এজেন্সির তালিকাঃ
| ক্রমিক নং | এজেন্সির নাম | ঠিকানা |
| ১ | কানাডা ভিসা প্রসেসিং সেন্টার | ১১৬ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, ঢাকা ১২০৫ |
| ২ | ওয়েস্টফোর্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস | হাউস নং ১৫, রোড নং ০৭, ঢাকা ১২১২ |
| ৩ | লেগাটো ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ভিসা (LIVC) | সুপার নোভা, হাউস# ১০৭, রোড নং ১৩, ঢাকা |
| ৪ | স্টাডি ইন কানাডা এডমিশন সেন্টার | ৯৯, ঢাকা ট্রেড সেন্টার, করিমন বাজার, ঢাকা |
| ৫ | স্কোশিয়া কন্সাল্ট্যান্টস | হাউস ৪০, রোড ১৬, ধানমন্ডি, ঢাকা ১২০৯ |
সতর্কবার্তা: অবশ্যই নিজ দায়িত্বে এজেন্সির সাথে ভিসা চুক্তি করবেন। কারণ ভিসা নিয়ে প্রতারণা অহরহ ঘটছে। সরকারিভাবে কানাডা যাওয়ার উপায়গুলো নিজে যাচাই করুন এবং সরাসরি কানাডা সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (Canada.ca) অনুসরণ করার চেষ্টা করুন।
সরকারিভাবে কানাডা যাওয়ার উপায় ২০২৬
বর্তমানে সরকারিভাবে কানাডা যাওয়ার জন্য বেশ কিছু জনপ্রিয় প্রোগ্রাম চালু আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো এক্সপ্রেস এন্ট্রি (Express Entry) এবং পিএনপি (PNP) প্রোগ্রাম।
- এক্সপ্রেস এন্ট্রি: এটি মূলত পয়েন্ট ভিত্তিক সিস্টেম। এখানে আপনার বয়স, শিক্ষা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং ভাষা দক্ষতার ওপর পয়েন্ট দেওয়া হয়।
- পিএনপি (Provincial Nominee Program): কানাডার নির্দিষ্ট কোনো প্রদেশ যদি আপনাকে নমিনেশন দেয়, তবে খুব সহজে ভিসা পাওয়া সম্ভব।
- এগ্রিকালচারাল পাইলট প্রোগ্রাম: কৃষি কাজে দক্ষ ব্যক্তিরা এই প্রোগ্রামের আওতায় সরকারিভাবে যেতে পারেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
কানাডা যেতে কত টাকা লাগে ২০২৬ সালে?
এটি নির্ভর করে আপনার ভিসার ক্যাটাগরির ওপর। স্টুডেন্ট ভিসায় সাধারণত ১৫-২৫ লক্ষ টাকা প্রয়োজন হয় (টিউশন ফিসহ)। ওয়ার্ক পারমিটে খরচ কিছুটা কম হলেও এজেন্সির সার্ভিস চার্জ ভিন্ন হতে পারে।
আইইএলটিএস ছাড়া কি কানাডা যাওয়া সম্ভব?
কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে (যেমন ভিজিটর ভিসা বা কিছু বিশেষ ওয়ার্ক পারমিট) আইইএলটিএস প্রয়োজন হয় না। তবে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি বা স্টুডেন্ট ভিসার জন্য এটি বাধ্যতামূলক।
কানাডায় কোন কাজের চাহিদা বেশি?
২০২৬ সালে কানাডায় স্বাস্থ্যসেবা (নার্সিং), আইটি সেক্টর, নির্মাণ কাজ এবং ট্রাক ড্রাইভিং পেশার প্রচুর চাহিদা রয়েছে।
শেষ কথা
পরিশেষে বলা যায়, কানাডা যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা খুব একটা কঠিন নয় যদি আপনার সঠিক পরিকল্পনা থাকে। ২০২৬ সালে কানাডা ইমিগ্রেশন নীতি আগের তুলনায় কিছুটা সুশৃঙ্খল হয়েছে। তাই কোনো এজেন্সির উপর অন্ধভাবে নির্ভর না করে নিজে তথ্য যাচাই করুন। আপনার একাডেমিক যোগ্যতা, ভাষা দক্ষতা এবং সঠিক কাগজপত্র থাকলে আপনি নিজেই আপনার স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে পারবেন। মনে রাখবেন, সঠিক তথ্যই আপনার সফল অভিবাসনের প্রধান চাবিকাঠি।





