স্বার্থপর মানুষ নিয়ে ইসলামিক উক্তি
স্বার্থপর মানুষ নিয়ে ইসলামিক উক্তি জানতে চান? পৃথিবীতে একটি সুন্দর জীবন অতিবাহিত করতে চাইলে, প্রথমেই আপনার জীবন থেকে স্বার্থপর মানুষদেরকে দূরে রাখুন। কারণ এরা যেকোন সময় আপনার ক্ষতিসাধন করতে পারেন। হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমরা খারাপ সঙ্গী থেকে সাবধান থাকো। কারণ খারাপ সঙ্গী লোহা ফুঁকে দেয়ার হাপরের মতো; হয় সে তোমাকে আগুনের আঁচ দেবে, নয় দুর্গন্ধ ছড়াবে।” (বুখারী)।
স্বার্থপর মানুষগুলো জীবনে অনেক কিছুই পাওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু পরিশেষে দেখা যায় তারা নিজের কাছের মানুষদেরই হারিয়ে ফেলে। যখন আপনি অন্যের উপকারের কথা চিন্তা করা ছেড়ে দিবেন, তখন বুঝবেন আপনি স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছেন। ইসলাম সবসময় ইসার (অন্যকে নিজের ওপর প্রাধান্য দেওয়া) শিক্ষা দেয়, যা স্বার্থপরতার সম্পূর্ণ বিপরীত।
স্বার্থপর মানুষ নিয়ে ইসলামিক উক্তি (সংগৃহীত)
নিচে স্বার্থপরতা, মুনাফিকি ও স্বার্থপর মানুষের আচরণ নিয়ে ১৪০টির অধিক ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে উক্তি ও সতর্কবাণী উপস্থাপন করা হলো। এসব উক্তি আমাদের জীবনকে আলোকিত করবে এবং সঠিক পথ দেখাবে।
- কিছু কিছু মানুষ আপনার সাথে সম্পর্ক করবে শুধুমাত্র সুবিধার নেওয়ার জন্য। এ সকল মানুষের থেকে দূরে থাকুন।
- পৃথিবীতে একটি সুন্দর জীবন অতিবাহিত করতে চাইলে, প্রথমেই আপনার জীবন থেকে স্বার্থপর মানুষদেরকে দূরে রাখুন।
- যখন আপনি অন্যের উপকারের কথা চিন্তা করা ছেড়ে দিবেন, তখন বুঝবেন আপনি স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছেন।
- মানুষের আসল চেহারা তখনই দেখতে পাওয়া যায়, যখন থেকে আপনি তার কোন উপকারে আসবেন না।
- স্বার্থপর ব্যক্তিরা বিবেচনা করে না যে, তাদের সিদ্ধান্তগুলো অন্যদের কীভাবে প্রভাবিত করবে। তারা শুধু তাদের সুবিধার কথাই সবচেয়ে বেশি ভাবে।
- আপনার জীবন থেকে স্বার্থপর মানুষদের দূর করে ফেলুন। কারণ তারা যেকোন সময় আপনার ক্ষতিসাধন করতে পারেন।
- স্বার্থপর মানুষেরা জীবনে অনেক কিছুই পাওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু পরিশেষে দেখা যায় তারা নিজের কাছের মানুষদেরই হারিয়ে ফেলে।
- মানুষ যখন স্বার্থপর হয়ে যায়, তখন তারা নিজের আপনজনদেরই ভুলে যায়।
- সে সকল মানুষদের থেকে দূরে থাকাই উত্তম, যারা তার নিজের যত্ন করার মানুষদের মাঝেও স্বার্থ খোঁজে থাকে।
- পৃথিবীতে অনেক সময় নিজের কাছের মানুষগুলোই স্বার্থের কাছে বিক্রি হয়ে যায়। যা সহ্য করার মতো নয়।
- আপনার স্বার্থপর বন্ধুদের চিনতে চাইলে, বাস্তবে দরিদ্র হওয়ার বা খারাপ সময়ের অভিনয় করুন। দেখবেন, স্বার্থপর বন্ধুরা আপনার থেকে দূরে চলে যাচ্ছে।
- কেউ তোমার আশেপাশে থাকলে এবং তোমার সাথে হাসলেই, সে তোমার বন্ধু নয়। কারণ মানুষ ভালো অভিনয় করতে জানে।
- দিনশেষে তুমি যখন কঠিন বাস্তবতার শিকার হবে, তখনই নকল লোকদের চিনতে পারবে।
- জীবনে তর্ক করার চেয়ে, নীরবতা ভালো। কারো উপর প্রতিশোধ নেওয়ার চেয়ে, এড়িয়ে চলা ভালো। আর স্বার্থপর মানুষের সাথে চলার চেয়ে, একা চলাও ভালো।
- যে সকল মানুষেরা অন্যের দুর্বলতাকে নিজেদের আনন্দের জন্য পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করে, পৃথিবীতে তারাই স্বার্থপর।
- তীব্র স্বার্থপর লোকেরা তাদের নিজেদের ইচ্ছার বিষয়ে সর্বদা খুবই দৃঢ় থাকে। অন্যের ভালো করতে তারা কখনই তাদের শক্তি অপচয় করে না।
- কিছু লোক স্বার্থের জন্য আপনাকে পিঠে ছুরিকাঘাত করবে, কিন্তু সামনে থেকে আবার আপনাকে জিজ্ঞেস করবে, কেন রক্তপাত হচ্ছে।
- আপনি যদি সমাজের স্বার্থপর মানুষগুলো দেখতে চান, তাহলে আপনার খারাপ সময়ের জন্য অপেক্ষা করুন।
- নিজের যত্ন নেওয়া, নিজেকে ভালোবাসা এবং নিজের সুখকে অগ্রাধিকার দেওয়া স্বার্থপরতা নয়, বরং জীবনে এগুলো প্রয়োজন।
- স্বার্থপর মানুষরা বিপদে পাশে থাকার অভিনয় করে, আর প্রকৃত আপনজনরা বিপদের দিনে সরাসরি পাশে থাকে।
- যে ব্যক্তি শুধু নিজের জন্য জীবন করে, সে প্রকৃতপক্ষে মৃত। জীবিত তারা যারা অন্যের জন্য বাঁচে।
- স্বার্থপরতার কারণে মানুষ জান্নাতের পথ ভুলে যায়। কেননা জান্নাতের পথ চলে অন্যের প্রতি ভালোবাসার মাঝ দিয়ে।
- রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে, তার ভাইয়ের জন্যও তা পছন্দ করে।” (বুখারী)
- স্বার্থপরতা হলো শয়তানের হাতিয়ার। শয়তান নিজেও স্বার্থপর হয়ে আল্লাহর আদেশ অমান্য করেছিল।
- স্বার্থপর লোকেরা দুনিয়ায় সুখ খোঁজে, কিন্তু তারা ভুলে যায় সুখ ত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত হয়।
- এক মুসলিম অপর মুসলিমের জন্য প্রাচীরস্বরূপ। স্বার্থপর ব্যক্তি এই প্রাচীর ভেঙে ফেলে।
- যদি দেখেন কেউ সব সময় শুধু ‘আমি’ ‘আমার’ শব্দ ব্যবহার করে, তবে বুঝবেন তার অন্তর স্বার্থপরতায় পূর্ণ।
- স্বার্থপরতার কারণে পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন হয়, যা ইসলামে ঘোরতর পাপ।
- কিয়ামতের দিন সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হবে তারা, যারা দুনিয়ায় স্বার্থপর ছিল কিন্তু নামাজ পড়ত।
- আল্লাহর রাস্তায় দান-খয়রাত করা স্বার্থপরতার মহৌষধ।
- নিজেকে সব সময় বড় ভাবা এবং অন্যকে ছোট দেখা হলো স্বার্থপরতার চরম রূপ।
- আপনি যত বেশি দেবেন, আল্লাহ তত বেশি দেবেন। স্বার্থপরতা এই সূত্র ভুলে যায়।
- মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো সে নিজে ক্ষুধার্ত থাকলেও অপরকে খাওয়ায়।
- স্বার্থপর মানুষেরা বন্ধুত্ব করে সুবিধার জন্য, আর মুমিনেরা বন্ধুত্ব করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
- হিংসা স্বার্থপরতার অঙ্গ। হিংসা পরকালের নেক আমলকে ধ্বংস করে দেয়।
- যে ব্যক্তি স্বার্থের কারণে অন্যের সাথে মিথ্যা বলে, তার জান্নাতের ঘ্রাণ পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
- স্বার্থপর লোকেরা পরামর্শ চায়, কিন্তু নিজের মতামতই শুনতে চায়।
- পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্বল মানুষ হলো সেই, যে নিজের স্বার্থ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।
- আপনি যদি অহংকার ও স্বার্থপরতা ত্যাগ করেন, আল্লাহ আপনার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।
- স্বার্থপর মানুষ কখনো প্রকৃত শান্তি পায় না, কারণ শান্তি ত্যাগের বিনিময়ে আসে।
- আপনার স্বার্থপর বন্ধু আপনাকে বিপদে ফেলে পালাবে, কিন্তু মুমিন বন্ধু আপনার হয়ে দোয়া করবে।
- গিবত (পরনিন্দা) করার অন্যতম কারণ হলো স্বার্থপরতা। অনেকে নিজেকে ভালো দেখানোর জন্য অন্যের নিন্দা করে।
- রাসূলুল্লাহ (সা.) এর জীবন ছিল অন্যের জন্য উৎসর্গের উজ্জ্বল উদাহরণ।
- স্বার্থপর মানুষকে তুমি ভালোবাসা দিয়ে জয় করতে পারবে না, কারণ সে শুধু লেনদেন বোঝে।
- সতর্ক থাকুন, স্বার্থপরতা আপনার ইবাদতকেও বিনষ্ট করতে পারে। যেমন: রিয়া (লোক দেখানো)।
- একজন স্বার্থপর মানুষ অন্যদের চোখে নিজেকে জ্ঞানী মনে করে, কিন্তু আল্লাহর কাছে সে মূর্খ।
- পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ পর্যন্ত স্বার্থপরতার কারণে অশান্তি ছড়ায়।
- যারা অন্যকে কষ্ট দিয়ে নিজের সুখ খোঁজে, আল্লাহ তাদের কাছ থেকে সুখ কেড়ে নেন।
- স্বার্থপরতার কারণে মানুষ সৎপথ থেকে বিচ্যুত হয়। কারণ সৎপথে চলতে গেলে ত্যাগ করতে হয়।
- আপনার চারপাশের স্বার্থপর মানুষগুলো আপনার শক্তি নিঃশেষ করে দেয়। তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন।
- স্বার্থপরতার কারণে মানুষ তার নিজের আত্মীয়-স্বজনকেও চিনতে পারে না।
- ইসলাম বলে, তোমার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকলে তুমি পেট ভরে খেতে পারো না। এটাই স্বার্থপরতার বিপরীত।
- একজন স্বার্থপর নেতা তার জনগণের দুর্ভোগ বুঝতে পারে না।
- স্বার্থপর লোকেরা অন্যদের কাছ থেকে সম্মান আদায়ের আশা করে, কিন্তু নিজেরা কাউকে সম্মান করে না।
- দুনিয়ার মোহ মানুষকে স্বার্থপর করে তোলে। দুনিয়া ছেড়ে দিতে পারলেই স্বার্থপরতা দূর হয়।
- স্বার্থপর মানুষ কাউকে ক্ষমা করে না, কারণ ক্ষমা করলে তার অহংকারে আঘাত লাগে।
- একজন স্বার্থপর সঙ্গীর চেয়ে একা থাকা শ্রেয়। কারণ সঙ্গী হবে শান্তির, নয়তো ধ্বংসের।
- আখিরাতে স্বার্থপরদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি, যারা দুনিয়ায় অন্যের হক নষ্ট করেছে।
- তুমি যদি স্বার্থপর হও, তাহলে তুমি একা। মুমিনরা কখনো একা হয় না, কারণ আল্লাহ তাদের সাথে আছেন।
- স্বার্থপরতা দূর করার জন্য সফর (ভ্রমণ) করার পরামর্শ দিয়েছেন সুফিরা। কারণ সফরে আপনাকে অন্যের ওপর নির্ভর করতে হয়।
- স্বার্থপর মানুষ সব সময় নিজের দুঃখ নিয়ে ব্যস্ত থাকে, অন্যের দুঃখ দেখে না।
- নবী করিম (সা.) বলেছেন, “সে মুমিন নয়, যে পেট ভরে খায় আর তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে।”
- স্বার্থপরতা একটি মানসিক রোগ। ইসলামের চিকিৎসা হলো জাকাত ও দান-সদকা।
- তুমি যদি কাউকে স্বার্থপর মনে করো, তাহলে তাকে দিয়ে কিছু করানোর চেষ্টা করো না। সে নিজের স্বার্থই দেখবে।
- স্বার্থপর ব্যক্তিরা কৃতজ্ঞতা জানে না। কারণ তারা ভাবে সবকিছু তাদের পাওনা।
- আল্লাহ স্বার্থপর অহংকারীকে পছন্দ করেন না।
- স্বার্থপরতা অন্তরকে মৃত করে দেয়। জীবন্ত অন্তর সব সময় অন্যের কথা চিন্তা করে।
- তোমার ভালোবাসা স্বার্থপর ব্যক্তির জন্য অপচয়। কারণ সে ভালোবাসার বিনিময়ে লাভ চায়।
- স্বার্থপরতার কারণে মানুষ কুফরির পথেও পা বাড়ায়, যেমন ফেরাউন করেছিল।
- পৃথিবীর সব সুখ এক জায়গায় জড়ো করলেও স্বার্থপর মানুষকে শান্তি দিতে পারে না।
- একটি স্বার্থপর চিন্তা হাজারটি নেক আমলকে নষ্ট করে দিতে পারে।
- সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি নিজের জন্য বেশি দোয়া কর, আর অন্যের জন্য না কর, তবে স্বার্থপরতা পরীক্ষা করে দেখো।
- স্বার্থপর মানুষেরা পরিণতিতে খুব একা হয়ে যায়। কারণ তারা কাউকে ধরে রাখতে পারেনি।
- ইসলামে ‘আমার সম্পদ’ বলতে কিছু নেই। সবকিছু আল্লাহর আমানত। এই বিশ্বাস স্বার্থপরতা দূর করে।
- স্বার্থপর মানুষ অন্যের পাপ নিয়ে ব্যস্ত থাকে, নিজের দোষ দেখে না।
- যারা স্বার্থের বশবর্তী হয়ে অন্যের সম্পদ গ্রাস করে, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
- একজন স্বার্থপর মানুষকে বোঝানো সবচেয়ে কঠিন, কারণ সে নিজেই সব জানে বলে মনে করে।
- স্বার্থপরতা ত্যাগ করাই প্রকৃত বীরত্ব। কারণ নিজের প্রবৃত্তির ওপর জয়লাভ করা বড় জিহাদ।
- স্বার্থপর মানুষের কাছে সময়ের কোনো মূল্য নেই, কিন্তু অন্যের সময় নষ্ট করতে তারা পিছপা হয় না।
- সৃষ্টির প্রতি দয়া করো, আসমানের আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করবেন। স্বার্থপর মানুষ দয়া করে না।
- যে স্বার্থপর, তার দোয়া কবুল হতে বিলম্ব হয়। কেননা দোয়ায় অন্যের জন্য না চাওয়া স্বার্থপরতা।
- স্বার্থপরতার কারণেই হযরত আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর পুত্র কাবিল তার ভাইকে হত্যা করেছিল।
- তোমার বন্ধু যদি সব সময় তোমার কাছ থেকে কিছু আশা করে, আর কখনো দিতে না চায়, তবে তার স্বার্থপরতা স্পষ্ট।
- স্বার্থপর মানুষ অন্যদের সুখে অসুখী হয়। কারণ তারা ভাবে, অন্যের সুখ তাদের সুখ কেড়ে নেয়।
- জ্ঞান অর্জন করো, জ্ঞান মানুষকে স্বার্থপরতা থেকে বাঁচায়।
- স্বার্থপরতা দূর করার সর্বোত্তম উপায় হলো অন্যের জন্য ভালো চিন্তা করা (মুয়াসাত)।
- হযরত ওমর (রা.) বলেছেন, “নিজের ভাইয়ের জন্য তুমি যা পছন্দ কর, তা না করা পর্যন্ত ঈমান পূর্ণ হয় না।”
- স্বার্থপর মানুষ মৃত্যুকে ভয় পায়, কারণ তারা ভাবে মৃত্যুতেই সব শেষ।
- মুমিন মৃত্যুকেও স্বার্থপরতার সাথে দেখে না। সে জানে মৃত্যু আল্লাহর সাক্ষাৎ।
- স্বার্থপর মানুষের বন্ধু শুধু তার পকেট বা ক্ষমতা।
- যত বড় স্বার্থপর, তত বড় একা।
- দান করো, স্বার্থপরতা দূর হবে। দান সম্পদ কমায় না, বরং বরকত দেয়।
- যে নিজেকে সবার ওপর প্রাধান্য দেয়, আল্লাহ তাকে দুনিয়াতেই লাঞ্ছিত করেন।
- স্বার্থপর লোকের সাথে ব্যবসা করা কঠিন, কারণ সে সব সময় নিজের লাভ দেখে।
- রাসূল (সা.) এর সুন্নত হলো অপরকে অগ্রাধিকার দেওয়া। এটাই স্বার্থপরতার প্রতিষেধক।
- স্বার্থপরতা সত্তর বছর ইবাদতকেও ধ্বংস করে দিতে পারে।
- তুমি স্বার্থপর হলে আল্লাহ তোমার অন্তর থেকে শান্তি তুলে নেবেন।
- স্বার্থপরতার চেয়ে বড় গুনাহ হলো, অন্যকে স্বার্থপরতার দিকে ঠেলে দেওয়া।
- একটি সমাজ ধ্বংস হয় যখন সেখানে স্বার্থপরতা চরম আকার ধারণ করে।
- ইসলামী ভ্রাতৃত্বের মূল ভিত্তি হলো স্বার্থত্যাগ।
- স্বার্থপর মানুষ জাহান্নামের সবচেয়ে নিকটবর্তী, কারণ তারা আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি রহম করেনি।
- তোমার স্বার্থপরতা তোমার ঈমানের দুর্বলতা প্রকাশ করে।
- বিনয় স্বার্থপরতা দূর করে, আর অহংকার স্বার্থপরতা বাড়ায়।
- স্বার্থপর মানুষ ইবাদতের মধ্যেও প্রতিযোগিতা শুরু করে, অন্যের ইবাদতকে ছোট করে দেখে।
- প্রকৃত ধনী সেই, যে স্বার্থপর নয়। কারণ সে আল্লাহর কাছে ধনী।
- স্বার্থপরতা আপনার চিন্তাশক্তিকে বিকল করে দেয়। আপনি শুধু নিজের চারপাশে ঘুরতে থাকেন।
- স্বার্থপর মানুষের থেকে সাবধান, তারা আপনার সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয়।
- স্বার্থপরতা একটি অন্ধকার পথ, যার শেষ প্রান্তে আছে অনুতাপ।
- যদি কেউ আপনাকে স্বার্থপর বলে, তবে তা আপনার আত্মশুদ্ধির জন্য গ্রহণ করুন।
- স্বার্থপর মানুষকে আল্লাহ সুস্থতা দেন না। কারণ রোগাক্রান্ত শরীর স্বার্থপরতাকে মনে করিয়ে দেয়।
- আপনার সন্তানকে স্বার্থপর না করে বড় করুন। তাকে অন্যের সাথে ভাগ করে নেওয়া শেখান।
- স্বার্থপর মানুষ কাউকে ভালোবাসতে পারে না, সে কেবল নিজেকেই ভালোবাসে।
- মসজিদে গিয়ে শুধু নিজের জন্য দোয়া করাও এক ধরনের স্বার্থপরতা।
- স্বার্থপর মানুষ অন্যদের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে, যাতে সে এগিয়ে থাকে।
- হাদিসে এসেছে, মুমিন মুমিনের আয়না। স্বার্থপর মানুষ আয়না হতে পারে না, কারণ সে বিকৃত করে দেখায়।
- স্বার্থপরতার কারণে অনেক পরিবার ভেঙে গেছে। ইসলাম পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে উদারতা শিক্ষা দেয়।
- তুমি যদি সত্যিই আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে স্বার্থপর হতে পারো না।
- স্বার্থপরতা একটি শৃঙ্খল, যা মানুষকে আবদ্ধ করে রাখে। ইসলাম সেই শৃঙ্খল ভাঙার নির্দেশ দেয়।
- স্বার্থপর মানুষ আখিরাতের জন্য মোটেও প্রস্তুতি নেয় না, কারণ তারা শুধু দুনিয়ার লাভ নিয়ে ব্যস্ত।
- দোয়ার মাধ্যমে স্বার্থপরতা দূর করার চেষ্টা করুন। আল্লাহ অন্তর পরিবর্তনকারী।
কীভাবে নিজেকে স্বার্থপরতা থেকে মুক্ত রাখবেন?
ইসলাম শুধু স্বার্থপরতা চিহ্নিত করেই থামে না, এটি মুক্তির পথও দেখায়। আমরা প্রতিদিনের কিছু আমলের মাধ্যমে নিজেদেরকে স্বার্থপরতার কবল থেকে বাঁচাতে পারি।
১. দান-সদকার অভ্যাস গড়ে তোলা:
আল্লাহ বলেন, “তোমরা যা ভালোবাস, তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত প্রকৃত পুণ্য লাভ করতে পারবে না।” (সূরা আলে ইমরান, ৯২)। আপনার প্রিয় জিনিস দান করা স্বার্থপরতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
২. অন্যের জন্য দোয়া করা:
আপনি যখন অন্যের জন্য নিয়মিত দোয়া করেন, তখন আপনার অন্তর ধীরে ধীরে প্রশস্ত হয়। নবীজি (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের জন্য গোপনে দোয়া করে, ফেরেশতা তার জন্য অনুরূপ দোয়া করেন।” এটি স্বার্থপরতা দূর করার কার্যকরী পদ্ধতি।
৩. সাহাবীদের জীবনী পড়া:
মহান সাহাবীরা ছিলেন স্বার্থপরতার উর্ধ্বে। আবু বকর (রা.) তার সমস্ত সম্পদ দান করেছেন, ওমর (রা.) অর্ধেক দান করেছেন। তাদের জীবনী পড়লে নিজের স্বার্থপরতা ছোট মনে হয়।
শেষ কথা
স্বার্থপরতা মানুষের অন্তরের একটি রোগ। এটি বাহ্যিক দৃষ্টিতে লাভজনক মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে মানুষকে একাকীত্ব ও আখিরাতের ক্ষতির দিকে নিয়ে যায়। একজন মুমিনের উচিত সবসময় নিজেকে পরীক্ষা করা, আমি কি অন্যদের কথা ভাবছি? আমার সুবিধা কি আমি অন্যের অসুবিধার ওপর প্রতিষ্ঠা করছি?
আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ছিল উৎসর্গের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি নিজে ক্ষুধার্ত থেকেও অন্যদের খাওয়াতেন, কষ্ট সত্ত্বেও অন্যদের আরাম দিতেন। আল্লাহ আমাদেরকে সেই পথে চলার তৌফিক দান করুন। মনে রাখবেন, আপনার জীবন থেকে স্বার্থপর মানুষদের বের করে দেওয়ার পাশাপাশি, নিজের অন্তরকেও স্বার্থপরতা থেকে পরিষ্কার করুন। তাহলেই দুনিয়া ও আখিরাতে পাবেন সফলতা।