ভিসা

সার্বিয়া সর্বনিম্ন বেতন কত ২০২৬ (আপডেটেড তথ্য)

সার্বিয়া বেতন কত এটি বর্তমানে ইউরোপে পাড়ি জমাতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি কর্মীদের কাছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ইউরোপ মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত এই দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশি শ্রমিকদের জন্য একটি বড় বাজার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। যদিও সার্বিয়া এখনও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা সেনজেনভুক্ত দেশ নয়, তবুও এর সহজ ভিসা প্রক্রিয়া এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেককে আকৃষ্ট করছে। আপনি যদি ২০২৬ সালে কাজের উদ্দেশ্যে দেশটি ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে সেখানকার বেতন কাঠামো এবং জীবনযাত্রার মান সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা জরুরি। আজকের এই বিস্তারিত প্রতিবেদনে আমরা সার্বিয়ার শ্রমবাজারের আদ্যোপান্ত নিয়ে আলোচনা করব।

সার্বিয়া বেতন কত ২০২৬ এবং বর্তমান বাজার পরিস্থিতি

সার্বিয়া একটি উন্নয়নশীল দেশ হওয়ায় এখানকার বেতন কাঠামো পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর (যেমন জার্মানি বা ফ্রান্স) তুলনায় কিছুটা কম। তবে পূর্ব ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় এখানকার অবস্থা বেশ স্থিতিশীল। ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, সার্বিয়াতে বেতনের পরিমাণ মূলত নির্ধারিত হয় শ্রমিকের দক্ষতা এবং কাজের প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে। দেশটিতে দক্ষ শ্রমিকের অভাব থাকায় বিশেষ কিছু খাতে বেশ ভালো অংকের বেতন পাওয়া সম্ভব।

বর্তমানে সার্বিয়ার মুদ্রার মান এবং বাংলাদেশের টাকার মান প্রায় কাছাকাছি হওয়ায় প্রবাসীদের জন্য হিসাব করা সহজ হয়। দেশটির সরকার প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ করে দেয়, যা যেকোনো বৈধ কর্মীর জন্য প্রযোজ্য। আপনি যদি দেশটিতে যাওয়ার আগে সার্বিয়া বেতন কত তা ভালোভাবে না জানেন, তবে সেখানে গিয়ে আর্থিক সমস্যায় পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

সার্বিয়া সর্বনিম্ন বেতন কত ২০২৬

যেকোনো দেশে যাওয়ার আগে সেখানকার সর্বনিম্ন বেতন কাঠামো সম্পর্কে জানা সবচেয়ে জরুরি। সার্বিয়া সরকার ২০২৬ সালের জন্য যে সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ করেছে, তা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে একজন সাধারণ শ্রমিকের সর্বনিম্ন মাসিক বেতন প্রায় ৭৮,০০০ টাকা (বাংলাদেশি মুদ্রায়)। এই বেতন মূলত ৪৪ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহের জন্য নির্ধারিত।

তবে মনে রাখবেন, এই সর্বনিম্ন বেতন থেকে ট্যাক্স বা কর বাবদ কিছু অর্থ কর্তন করা হতে পারে। সাধারণত কর বাদ দেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে তাকে ‘নেট স্যালারি’ বলা হয়। সার্বিয়াতে সর্বনিম্ন বেতনের পাশাপাশি ওভারটাইম করার সুযোগ রয়েছে। আপনি যদি প্রতিদিন নির্ধারিত ৮ ঘণ্টার বাইরে অতিরিক্ত কাজ করেন, তবে আপনার মাসিক আয় ১ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কাজের ধরন অনুযায়ী বেতনের তালিকা

সার্বিয়াতে সব কাজের বেতন সমান নয়। কারিগরি কাজে দক্ষ ব্যক্তিদের আয় সাধারণ শ্রমিকদের তুলনায় অনেক বেশি। নিচে ২০২৬ সালের সম্ভাব্য মাসিক বেতনের একটি ছক দেওয়া হলো:

ক্রমিক পেশার ধরন মাসিক গড় বেতন (টাকা)
রেস্টুরেন্ট ওয়েটার ৮০,০০০ – ১,১০,০০০
ডেলিভারি ম্যান ৯০,০০০ – ১,৪০,০০০
পেশাদার ড্রাইভার ৮০,০০০ – ১,৫০,০০০
নির্মাণ শ্রমিক (রাজমিস্ত্রি) ৮০,০০০ – ১,১০,০০০
ইলেকট্রিশিয়ান ৮০,০০০ – ১,২০,০০০
প্লাম্বার ৮০,০০০ – ১,২০,০০০
কৃষি শ্রমিক ৮০,০০০ – ৯০,০০০
অটোমোবাইল মেকানিক ৮০,০০০ – ১,৫০,০০০

সার্বিয়া কোন কাজের চাহিদা বেশি ২০২৬

বিদেশে যাওয়ার আগে শুধু সার্বিয়া বেতন কত জানলেই হবে না, বরং কোন কাজে আপনার দক্ষতা আছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালে সার্বিয়াতে বিশেষ কিছু খাতের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে পর্যটন এবং নির্মাণ শিল্প অন্যতম। দেশটি বর্তমানে তাদের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য প্রচুর পরিমাণে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ করছে।

চাহিদা সম্পন্ন কাজগুলোর একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

  • হোটেল ও রেস্টুরেন্ট সেবা: পর্যটন বাড়ার কারণে শেফ, ওয়েটার এবং ক্লিনারদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
  • নির্মাণ শিল্প: রাজমিস্ত্রি, টাইলস মিস্ত্রি এবং সাধারণ হেল্পারদের জন্য প্রচুর কাজ রয়েছে।
  • পরিবহন ও লজিস্টিকস: অনলাইনে কেনাকাটা বাড়ায় ডেলিভারি বয় এবং ট্রাক ড্রাইভারদের কদর বেড়েছে।
  • কারিগরি কাজ: ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার এবং ওয়েল্ডারদের জন্য ভালো বেতনের অফার থাকে।

আপনি যদি এসব কাজে দক্ষ হন, তবে দেশটিতে গিয়ে দ্রুত কাজ খুঁজে পাবেন। ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করতে অনেক সময় ভোটার আইডি কার্ডের তথ্যের প্রয়োজন হয়। আপনার এনআইডি কার্ডের কোনো সমস্যা থাকলে তা আগে থেকেই জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন সংক্রান্ত তথ্যের সাহায্য নিয়ে ঠিক করে নেওয়া উচিত। সঠিক নথিপত্র আপনার ভিসা প্রক্রিয়াকে সহজতর করবে।

সার্বিয়া কোন কাজের বেতন বেশি?

দক্ষতাভিত্তিক কাজগুলোতে সার্বিয়াতে সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া যায়। বিশেষ করে যারা ভারী যানবাহন চালাতে পারেন বা বড় বড় কলকারখানায় মেকানিক্যাল কাজ জানেন, তাদের আয় অনেক বেশি। এছাড়া আইটি সেক্টর বা তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও দেশটিতে বেতন অনেক আকর্ষণীয়। তবে একজন সাধারণ শ্রমিকের জন্য ড্রাইভিং এবং অটোমোবাইল সার্ভিসিং হলো সবচেয়ে বেশি আয়ের উৎস। একজন দক্ষ ড্রাইভার অতিরিক্ত সময় কাজ করলে মাসে ২ লক্ষ টাকার কাছাকাছি আয় করতে পারেন।

জীবনযাত্রার ব্যয় ও সঞ্চয়

সার্বিয়া বেতন কত তা জানার পাশাপাশি খরচ কেমন হবে সেটি জানাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়াতে থাকার খরচ এবং খাবারের দাম অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের তুলনায় বেশ সস্তা। সাধারণত কোম্পানি যদি আবাসন সুবিধা প্রদান করে, তবে একজন কর্মী তার বেতনের বড় একটি অংশ সঞ্চয় করতে পারেন।

ব্যয়ের খাত মাসিক গড় খরচ (টাকা)
বাসা ভাড়া (যদি কোম্পানি না দেয়) ২০,০০০ – ৩৫,০০০
খাবার খরচ ১৫,০০০ – ২০,০০০
পরিবহন খরচ ৩,০০০ – ৫,০০০
অন্যান্য ৫,০০০ – ৭,০০০

সার্বিয়া যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় পরামর্শ

আপনি যখন নিশ্চিত হবেন যে সার্বিয়া বেতন কত আপনার জন্য সন্তোষজনক, তখন ভিসা প্রক্রিয়ায় মন দিন। কোনো দালালের খপ্পরে না পড়ে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়ার চেষ্টা করুন। দেশটিতে যাওয়ার আগে অন্তত ইংরেজি বা সার্বিয়ান ভাষার প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করা ভালো। এতে কর্মক্ষেত্রে অন্যদের সাথে যোগাযোগ করা সহজ হয়।

যাওয়ার আগে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন:

  • চুক্তিপত্রে বেতনের পরিমাণ এবং কর্মঘণ্টা পরিষ্কারভাবে দেখে নিন।
  • থাকা এবং খাওয়ার খরচ কে বহন করবে তা নিশ্চিত করুন।
  • ভিসা পাওয়ার পর জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) কার্ড সংগ্রহ করুন।
  • নিজের স্বাস্থ্য বিমা সম্পর্কে তথ্য নিন।

সার্বিয়াতে কাজের পরিবেশ বেশ উন্নত এবং মানুষজন বন্ধুসুলভ। তবে শীতকালে সেখানে প্রচণ্ড ঠান্ডা থাকে, তাই শীতের পোশাক সাথে রাখা জরুরি। সঠিক পরিকল্পনা এবং কর্মদক্ষতা থাকলে সার্বিয়া হতে পারে আপনার ভাগ্য পরিবর্তনের একটি বড় সুযোগ। বর্তমানে সার্বিয়ার অর্থনীতি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বেতন বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

শেষ কথা

সার্বিয়া বর্তমান সময়ে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য। যদিও এখানকার আয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তুলনায় কিছুটা ভিন্ন এবং পশ্চিম ইউরোপের মতো আকাশচুম্বী নয়, তবুও এখানকার জীবনযাত্রার মান এবং স্থিতিশীলতা প্রশংসনীয়। সার্বিয়া বেতন কত হবে তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে আপনার অভিজ্ঞতার ওপর। তাই দেশটিতে যাওয়ার আগে যেকোনো একটি কারিগরি কাজে দক্ষতা অর্জন করুন। সঠিক পথে এগিয়ে গেলে ইউরোপের এই সুন্দর দেশটিতে আপনি একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে সক্ষম হবেন। সবসময় মনে রাখবেন, বৈধ পথে বিদেশ যাওয়া এবং কঠোর পরিশ্রমই সাফল্যের একমাত্র চাবিকাঠি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button